ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটুকু?
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪২ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র দখলে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এটি সম্ভব হলেও, এর ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এ ধরনের অভিযানে পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়েও শঙ্কিত অনেকে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন চায়, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনায় এসেছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি দখলে নেয়ার পরিকল্পনা।
প্রথমেই প্রশ্ন আসে ইরানের কাছে কি পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই মাত্রা থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা তুলনামূলক সহজ, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এই মজুদ থেকে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।
এই ইউরেনিয়াম মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইসফাহান, নাতাঞ্জ এবং ফোর্দোতে রাখা আছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব স্থাপনার বেশিরভাগই ভূগর্ভে, যা সামরিক হামলার পরও পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন। আর এগুলোকে সামরিকভাবে দখলের প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান হবে অত্যন্ত কঠিন।
কারণ, এসব স্থাপনা সমুদ্র থেকে অনেক দূরে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে হবে। শুধু পৌঁছানোই নয়, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভূগর্ভে ঢুকে এলাকা নিরাপদ রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন চালানো, সব মিলিয়ে এটি একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশন।
এর সঙ্গে রয়েছে বড় ধরনের রাসায়নিক ঝুঁকিও। এই ইউরেনিয়াম সাধারণত ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড গ্যাস আকারে সংরক্ষিত থাকে। এটি পানির সংস্পর্শে এলে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি করে। কোনো সিলিন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হলে মারাত্মক দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা আশপাশের মানুষের জন্যও বিপজ্জনক।
তবে এগুলো ধ্বংস করাও সহজ সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে গেলে আশপাশের এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি রাসায়নিক দূষণ তৈরি হতে পারে। তাছাড়া সব উপাদান ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়াও কঠিন। এ কারণে ভবিষ্যতে আবার তা ব্যবহার করার প্রশ্ন থেকেই যায়।
তবে ইতিহাসে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। ১৯৯৪ সালে প্রজেক্ট স্যাফায়ার-এর মাধ্যমে কাজাখস্তান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেটি ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতিতে, যা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্লেষকদের মতে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানই বেশি কার্যকর।
ইউরেনিয়াম কম মাত্রায় নামিয়ে আনা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাখা বা চুক্তির মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া এসবই তুলনামূলক নিরাপদ পথ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করা শুধু সামরিক অভিযানই নয়, এটি এক জটিল সমীকরণও। যেখানে একদিকে রয়েছে যুদ্ধের ঝুঁকি, অন্যদিকে পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা। তাই সমাধান খুঁজতে এখনো কূটনীতিক পথই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে।
এসকে/এসএন