© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডের’ নমুনা দেখাল ইরান

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডের’ নমুনা দেখাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০৪ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে সাধ্যমত জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রও। তেহরান থেকে ছোড়া ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে প্রতিদিনই কেঁপে উঠছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড।পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় সমানতালে প্রতিশোধমূলক হামলা চলছে। এতে বেশ বিপাকে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।

সংঘাতের ষষ্ঠ দিন গত ৫ মার্চ পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-৩’ (এলএমজি ৩০) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ‘ডুমসডে’ হিসেবে পরিচিত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পরই আলোচনায় আসে নতুন একটি শব্দ।

ডুমসডে বা ধ্বংসের দিন। এরপর থেকে এটি নিয়ে বেশ ঘাঁটাঘাঁটি হচ্ছে। যদিও এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শব্দটি আরও একবার আলোচনায় এসেছিল। গত ১১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রহস্যময় একটি বিমান উড়ানোর খবর আসে।

বিমানটি পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে। আকাশে উড়ন্ত পেন্টাগনের মতো গড়নের এই বিমান দেখেই কৌতূহল বাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। পারমাণবিক হামলায়ও টিকে থাকার সক্ষমতা সম্পন্ন এই উড়োজাহাজ আসলে দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার ভরসা।

যেকোনো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতেও এই বিমানে বসে পরিচালনা করা যাবে মার্কিন সরকার ও বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যুদ্ধ। আকাশে ভাসমান সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করে।
এই দুই ঘটনার পর ডুমসডে নিয়ে বেশ আলোচনা চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ৩৫তম দিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন আধিপত্যে ধ্বংযজ্ঞ চালায় ইরান। একে একে মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য দিতে থাকে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বাহিনী।

প্রথমে জানা যায়, মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫, যা এখন পর্যন্ত সবেচেয় আধুনিক যুদ্ধযান হিসেবে পরিচিত, সেটি ধ্বংস করার দাবি করেছিল তেহরান। পরে জানা যায়, সেটি ছিল মার্কিন এফ-১৫। 

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের  এ-১০ ওয়ার্টহগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। একক আসনের এই অ্যাটাক যুদ্ধবিমান মূলত স্থল সেনাদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়। এরপর একে একে খবর আসতে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুই ডজন আকাশ যান বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানি সেনাদের হামলায়। 

এর মধ্যে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারও আছে, যেগুলো ইরানের মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পালটকে খুঁজতে গিয়েছিল। এ অভিযানে যক্তরাষ্ট্র এক পালটকে উদ্ধারের দাবি করলেও ফেরার পথে আক্রান্ত হয় হেলিকপ্টার দুটি। তবে সেগুলো ধ্বংস হয়েছে কিনা, বা আঘাতের মাত্রা কেমন ছিল তা স্পষ্ট নয়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন যেসব যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত বা ক্ষতি করার দাবি করে ইরান সেগুলো হলো:

একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস, একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত,দুটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি হেলিকপ্টারে আঘাত,একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, শিরাজ-এ একটি উইং লুং-২ ড্রোন ভূপাতিত, তিনটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত, একটি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত, ইরাকে একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন জরুরি কোড ৭৭০০ প্রেরণ করেছে, দুটি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান জরুরি কোড ৭৭০০ প্রেরণ করেছে এবং দুটি ক্রুজ মিসাইল ও বেশ কয়েকটি সুইসাইড ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

এর অধিকাংশ তথ্যই মার্কিন সামরিক বাহিনী সত্য বলে স্বীকার করেছে, যা তাদের একটি অন্যতম ধ্বংসাত্মক দিনের প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডের’ নমুনা দেখিয়ে দিয়েছে ইরান, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরো বিশ্বের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

যুদ্ধের ময়দানে এক দিনে এতো ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র গত কয়েক দশকে দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত ২ মার্চ ইরানে আক্রমণ করতে গিয়ে কুয়েতের আকাশে বিধ্বস্ত হয় তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই।

এছাড়া  ২০১১ সালের ৬ আগস্ট আফগানিস্তানে একটি চিনুক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়ে ৩১ মার্কিন সৈন্য নিহত হয়। এটি পুরো আফগান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর জন্য একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ছিল।

২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ইরাকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও বিদ্রোহী হামলায় একদিনে মোট ৩৭ মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারায়, যা ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে মারাত্মক দিন হিসেবে বিবেচিত। 
আর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন ছিল ১৯৪৪ সালের ৬ জুন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নরম্যান্ডি আক্রমণে একদিনে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সৈন্য নিহত হয়।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন