© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চিকেনস নেকে ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরির ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শেয়ার করুন:
চিকেনস নেকে ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরির ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৫৯ পিএম | ২২ আগস্ট, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চল। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করার মূল মাধ্যম এই সরু করিডোরটি। শুক্রবার (২০ আগস্ট) শিলিগুড়ি সফরে এসে করিডোরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা জোরদারে বড় ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

তিনি জানান, শিলিগুড়ি করিডোরের সুরক্ষায় সব ধরনের প্রশাসনিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার বিভিন্ন আবাসিক ও প্রশাসনিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা উপস্থিত ছিলেন।

নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমানার কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব অনেক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গঠন করেছে। এর আওতায় চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি ঘাঁটি থেকে এই এলাকার নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো নিয়মিত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে করিডোরটিকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেন যে, অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর জন্য প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন থাকলেও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তা পাওয়া যায়নি। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ ও এসএসবির জমিজট নিরসন করে ১ হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন এবং বাকি ২৯ একর জমিও দ্রুত অনুমোদনের আশ্বাস দিয়েছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর অধীনে ৬ হাজার ৮৩৯ কোটি রুপি ব্যয়ে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উন্নত সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর চালু হলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন