যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানে বসতে রাজি নয় ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৬ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কয়েকটি দেশের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা কার্যত থমকে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আলোচনার জন্য তারা ইসলামাবাদে কোনো কর্মকর্তা পাঠাবে না।
মূলত যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলোকে ইরান 'অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করায় বর্তমান কাঠামোর অধীনে আলোচনার সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে তুরস্ক ও মিশর এখন ইসলামাবাদের বাইরে নতুন কোনো বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে বাঁচাতে আলোচনার সম্ভাব্য নতুন ভেন্যু হিসেবে কাতার এবং ইস্তাম্বুলের নামও গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একই দিনে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্টই মূলত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ 'অবাধ, মুক্ত ও নিরাপদ' না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ অনুরোধ বিবেচনা করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এমনকি শর্ত পূরণ না হলে ইরানকে বোমাবর্ষণ করে 'ধ্বংসের পর্যায়ে বা তাদের ভাষায় 'প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নেওয়ার কড়া হুমকিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের দাবির পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চাওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টো শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস-এর কাছে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র দাবি করেছে, গত বুধবার তৃতীয় একটি দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের কাছে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, যা তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এসএস/টিএ