© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিজেপি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী : মমতা

শেয়ার করুন:
বিজেপি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী : মমতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪০ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রায়শই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে থাকে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রত্যেকেই অভিযোগ করে থাকেন, ‘এই অনুপ্রবেশকারীরাই মমতার ভোটব্যাংক। আর সেই কারণেই এই ইস্যুতে মমতা চুপ থাকেন। এদের ভোটার তালিকায় রেখে দিতে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।’

আসন্ন নির্বাচনে এই ইস্যুটিকে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বিজেপি। কিন্তু দমার পাত্র নন মমতা। পাল্টা বিজেপিকেই সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান।

মমতার অভিযোগ, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারীর তকমা দেওয়া হয়। তোমরা কারা? সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী তো বিজেপি, কারণ এরা নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখানে আসে। অন্য জায়গা থেকে এখানে আসে। তার কারণ এরা ভোট দখল করে, ভোট লুট করে, তারা গুন্ডামি করে।’

শনিবার রাজ্যটির মালদা জেলার মানিকচকের এনায়েতপুরে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে এই অভিযোগ তোলেন মমতা।

এসআইআর বা ভোটার তালিকায় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বলেন, ‘দিল্লিতে বসে বিজেপির লোকেরা দেখে দেখে সংখ্যালঘুদের ভোট কেটেছে। যেখানে তফসিল জাতি আছে সেখানেও বাদ দিয়েছে। কোথাও আদিবাসী ভোট বাদ দিয়েছে। ২৫০ জনের মতো মারা গেছে-যার মধ্যে অর্ধেক হিন্দু, অর্ধেক মুসলিম।’

এসময় তার অভিমত, ‘আগুন যখন লাগে তখন...একজন হিন্দুর ঘরে লাগলে পাশে মুসলিমের ঘরে সেই আগুন লাগবে না-এটা কখনো হতে পারে না। আসলে বিজেপি কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। ওদের ধর্ম একটাই-দাঙা করার ধর্ম, মানুষ মারার ধর্ম। লজ্জা করে না?’

মমতা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘অমিত শাহকে আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। এইখানে দাঁড়িয়ে মিটিং করে যাদের নাম কাটা গেছে তাদের সাথে দেখা করে কথা বলুন। আপনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফোন করে করে সকলকে নির্দেশ দেন যে মুসলিমদের নাম বাদ দাও, মুর্শিদাবাদে ভোট কাটো। তেহট্টে ভোট কাটো। এমনকি আমার নির্বাচনী কেন্দ্রেও ৪০ হাজার ভোট কেটে দিয়েছে। ওরা ভাবছে এইভাবে জিতবে?’

তার আগাম বার্তা, ‘২০২৬ সালের দিল্লিতে বিজেপির সরকারের পতন হবে। আমরা যদি একটুও বুঝে থাকি বা আমরা যদি একটুও ভারতকে চিনে থাকি। ওরা (বিজেপি) বাংলাকে টার্গেট করেছে। আর আমরা দিল্লিকে টার্গেট করছি। মোটা ভাই (অমিত শাহ), আগামী দিন তৈরি থাকুন। আপনারা যা করে বেড়াচ্ছেন দেখবেন আচমকা নিজেরাই নিজেদের পতন ঘটাবেন। আমরা সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করবো।’

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী আরও বলেন, ‘মোটা ভাইয়ের কাজ হচ্ছে, বাংলাকে বিক্রি করে দাও। দাঙা করে যারা ক্ষমতায় এসেছে যে তারা কি মানুষের দুঃখ বোঝে? তাই চিরদিনের জন্য এদের জব্দ করতে হবে। গণতন্ত্রে মোকাবিলা করতে হবে। এরা মানুষকে কিছুই দেয় না সব কেড়ে নেয়।’

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে অত্যাচারী, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সরকার বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দিল্লিতে আর এই সরকারের দরকার নেই। আগে আপনাদের পরিবর্তন করতে হবে। ওরা আমাদের বঞ্চনা করছে। ১০০ দিনের কাজের রুপি বন্ধ করে দিয়েছে, গরিব লোকের বাড়ি তৈরি করার রুপি বন্ধ করেছে। আমাদের জব্দ করতে চায় বিজেপির সরকার।’

আসন্ন নির্বাচনের তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানিয়ে মমতা বলেন, ‘বিজেপি আর কংগ্রেস-এরা দু’জনে বাংলায় বোঝাপড়া করে চলে। এদের ভোট দিয়ে ভুল করবেন না। না হলে ওরা ডিটেনশন ক্যাম্প করবে, এনআরসি করবে। ওরা নানারকমভাবে মানুষকে বিপদে ফেলবে। কিন্তু তৃণমূল থাকলে একটা মানুষকেও ডিটেনশন ক্যাম্পেও পাঠানো হবে না, একটি মানুষের উপর অত্যাচারও করা হবে না।’

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন