© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পাকিস্তানে জনরোষের মুখে গণপরিবহন ফ্রি ঘোষণা শাহবাজ শরিফের

শেয়ার করুন:
পাকিস্তানে জনরোষের মুখে গণপরিবহন ফ্রি ঘোষণা শাহবাজ শরিফের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩১ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জনরোষ সামাল দিতে রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে আগামী এক মাসের জন্য সকল সরকারি গণপরিবহন সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সংকটকালীন স্বস্তির ঘোষণা দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়িয়ে লিটার প্রতি ৪৮৫ রুপি নির্ধারণ করা হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার দাম কিছুটা কমিয়ে ৩৭৮ রুপি নির্ধারণের ঘোষণা দেন। তবে ডিজেলের দাম ৫২০ রুপিতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ এই দাম বৃদ্ধিকে জনগণের ওপর ‘পেট্রোল বোমা’ নিক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় কমাতে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ছয় মাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য বেতন গ্রহণ করবেন না। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে অনেক সরকারি অফিস চার দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে এই মুদ্রাস্ফীতি। যতক্ষণ না জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ আমি শান্ত হব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, শনিবার থেকে আগামী ৩০ দিন ইসলামাবাদের সকল সরকারি গণপরিবহন বিনামূল্যে চলবে। এতে সরকারের প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হবে। অন্যদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফও তার প্রদেশে সরকারি পরিবহনে ভাড়ামুক্ত যাতায়াত এবং ট্রাক-বাসের জন্য বিশেষ ভর্তুকি ঘোষণা করেছেন। সিন্ধু প্রদেশের করাচিতেও মোটরসাইকেল চালক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, যুদ্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতে গিয়েই সরকার সাধারণ মানুষের ওপর এই বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার ২৫ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন