© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১০০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিখোঁজ ৭০, বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৩২

শেয়ার করুন:
১০০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিখোঁজ ৭০, বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৩২

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১০ পিএম | ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
লিবিয়ার উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা উল্টে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নৌকাটি ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু মাঝপথে লিবিয়ার জলসীমায় ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ বেঁচে যাওয়া ৩২ জনকে উদ্ধার করে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে আসে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, নৌকায় প্রায় ১০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। নৌকাটি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে ছেড়ে যায়।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন সূত্র এ তথ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকৃত অভিবাসীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে আবহাওয়া খুবই খারাপ ছিল এবং বড় বড় ঢেউয়ে নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নৌকাটি উল্টে যায়।

জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ জানিয়েছে, তারা শনিবার একটি বিমান দিয়ে ভূমধ্যসাগরের মধ্যভাগে একটি বিপদগ্রস্ত নৌকার খবর পায়। বিমান পৌঁছালে উল্টানো কাঠের নৌকায় প্রায় ১৫ জনকে ভাসতে দেখা যায় এবং কয়েকজনের মরদেহও দেখতে পাওয়া যায়।

ইতালীয় কোস্টগার্ডের মুখপাত্র রবার্তো দ’আররিগো জানিয়েছেন, লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এতে একটি ইতালীয় বাণিজ্যিক জাহাজ এবং একটি লিবারিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ৩২ জন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিককে ইতালীয় কোস্টগার্ড জাহাজে স্থানান্তরিত করা হয় এবং লাম্পেদুসার বন্দরে আনা হয়। দুর্ঘটনায় দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো জানিয়েছেন, নৌকাটি ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করার জন্য অত্যন্ত অনুপযুক্ত ছিল। উদ্ধারকৃতরা জানিয়েছেন, এখনও প্রায় ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যদিও এটি নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

আইওএমের মতে, নৌকায় মোট ১২০ জন থাকতে পারে। যদি এই সংখ্যা সত্যি হয়, তবে এটি ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এক দুর্যোগের মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে, ইতালীয় সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ) বলেছে, এই দুর্ঘটনা কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং ইউরোপীয় সরকারের নীতির ফল। কারণ তারা নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ খুলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন