ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৭ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
ফরিদপুরে সরকারি সহায়তার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বিধবা নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী (৪৩) কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী হারানোর পর থেকে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যের বাসায় কাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও কখনোই পাননি সরকারি সহায়তা।
এই সুযোগটিকেই কাজে লাগায় প্রতিবেশী সুজন শেখ (৩৫) ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায় সে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে কার্ড করানোর কথা বলে ওই নারীকে রিকশায় করে ফরিদপুর শহরের দিকে নিয়ে যায় সুজন। পরে গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে নামিয়ে পায়ে হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলে নেয়। সেখানে ‘অফিস’ দেখানোর কথা বলে একটি কক্ষে নেওয়ার পর দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনদের সহায়তায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চার দিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরেন তিনি। হাসপাতালের ছাড়পত্রে যৌন সহিংসতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি তো অফিস চিনি না। ওর কথায় বিশ্বাস করে গেছিলাম। স্বামী নাই, অভাবের সংসারে সরকারি সাহায্য পাইব এই আশায় গেছিলাম। কিন্তু আমার জীবনডা শেষ কইরা দিল। আমি বিচার চাই।
এ ব্যাপারে আসামি সুজন শেখ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এই মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখিত হোটেলটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ভুক্তভোগী স্পষ্টভাবে স্থান চিহ্নিত করতে না পারায় প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
আরআই/টিকে