জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না ট্রাম্পকে, অনিশ্চয়তায় হোয়াইট হাউস
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৬ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। হোয়াইট হাউসে সোমবার (১৩ এপ্রিল) অস্বাভাবিক ব্যস্ততা থাকলেও তার সব কর্মসূচি 'বন্ধ দরজার আড়ালে' রাখা হয়েছে। খবর বিবিসির।
হোয়াইট হাউসের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ট্রাম্পের আজকের সব অনুষ্ঠানই গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত নয়। এমনকি নেদারল্যান্ডসের রাজা ইউলিয়াম আলেক্সজান্ডার এবং রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে নৈশভোজও রয়েছে ব্যক্তিগত পরিসরে। ডেডলাইনের (ইস্টার্ন টাইম সোমবার সকাল ১০টা) আগে সকাল থেকেই হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরাসরি সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজের ওপর 'নিরপেক্ষভাবে' অবরোধ কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের জলসীমা ও উপকূলীয় পথ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
তবে কীভাবে এই অবরোধ বাস্তবায়ন করা হবে, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে এবং এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক কী অর্জন করতে চায়-এসব প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়। অবরোধ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষের নানাবিধ প্রতিক্রিয়ায়।
এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য দেশের অভ্যন্তরেও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ জ্বালানি মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে আগেই অনাগ্রহ ও উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়া পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডেডলাইন ঘনিয়ে এলেও ট্রাম্পের নীরবতা ও অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে, আর বিশ্বজুড়ে নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে।
টিজে/টিএ