© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম লেভেল থ্রি ফাতেমার

শেয়ার করুন:
দেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম লেভেল থ্রি ফাতেমার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:০৯ এএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করলেও বেশি দূর এগোয়নি ক্যারিয়ার। তিন ওয়ানডে ম্যাচ খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন ২০১১ সালেই। এরপর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় বিকেএসপিতে কাজ করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন কোচিং পেশার জন্য। বলছিলাম বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক ক্রিকেটার ফাতেমা তুজ জোহরার কথা।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ নারী দলের সহকারী কোচ হিসেবে তিন মাস কাজ করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ হিসেবেও চার মাস দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন ফাতেমা। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেটে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছেন তিনি, যা তার কোচিং ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে।

২০২২ সালে বিকেএসপি ছাড়ার পর মালদ্বীপ ক্রিকেটের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন ফাতেমা তুজ জোহরা। সেখানে টানা দুই বছর কাজ করে দলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

পরে মালদ্বীপ অধ্যায় শেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে চীনে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে চীনা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ বর্তমানে কাতার নারী দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। আগামী তিন মাস পর নিবেন প্রধান কোচের দায়িত্ব। এরমধ্যে সম্পন্ন করে রাখলেন লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স। গেল বছর বিসিবির অধীনে এই কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলেন ৩০ জন কোচ। তারমধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে ছিলেন ফাতেমা।

দেশের নারী কোচদের মধ্যে ফাতেমা প্রথম যিনি লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স পাস করলেন। এ নিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানালেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। এই কোর্সটাতে একমাত্র নারী হিসেবে আমি ছিলাম। আমি তো আসলে ওই সময় দেশের বাইরে কোচিং করাচ্ছিলাম তো যখন এই সুযোগটা পেয়েছিলাম, কাজে লাগিয়েছি।’




‘১৪ বছর পরে আসলে লেভেল থ্রি করার কারণটা রয়েছে। মালদ্বীপ চায়না কাতার সব দেশেই কাজ করেছি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়াতে কোচিং করিয়েছি। কোচিংয়ের সাথেও যুক্ত ছিলাম নিউ সাউথ ওয়েলসে।’

‘সেই সময় আমি আসলে অস্ট্রেলিয়াতে লেভেল টু করেছিলাম নিউ সাউথ ওয়েলসের অধীনে। তারা আমার কাজের প্রতি খুশি হয়ে বিনা পয়সায় আমার এই সুযোগ দিয়েছিল এবং আমি সফলতার সাথে পাস করেছিলাম। এছাড়া ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় আইসিসির অধীনেও লেভেল টু করেছিলাম। আমার দুইবার লেভেল টু করা হয়েছে, আইসিসি এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হয়ে করেছি। যে কারণে আসলে আমার লেভেল থ্রি পাকাপোক্ত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন করে করতে চেয়েছিলাম। লেভেল টু করার পর ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। শেষ দুই মাস হল আমি কাতারের কোচ হিসেবে যোগদান করেছি। কিছুদিন পরে ইন শা আল্লাহ প্রধান কোচ হয়ে যাব জাতীয় দলের।’

বেশ কয়েকটি দেশে কোচের দায়িত্ব পালন করলেও বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সুযোগ পাননি। এই বিষয় নিয়ে ফাতেমার স্পষ্ট কথা, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি এইভাবে দেখি, যে আমি এখনো পুরোপুরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। যে কারণে আমি বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার মত সুযোগ পাই নাই। বিগত ৬-৭ বছর ধরে আমি কাজ করতেছি আন্তর্জাতিক কোচ বলতে পারেন। সবগুলো জাতীয় দলের হয়ে কাজ করেছি। এর পরও আমি দেশের একটি গণমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিনা। সে কারণে আমি মনে করি যে আমি এখনো যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’

এরপরই জানতে চাওয়া হয় কখনো সুযোগ আসলে চলে আসবেন কিনা দেশে ফাতেমার উত্তর, ‘অবশ্যই আসব কেন আসবো না, দেশ সবার আগে। আমি একজন সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়, আমি দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি বিকেএসপিতে কাজ করেছি। এখনকার সময়ে যারা খেলছে মারুফা, সোবহানা সবাই আমার আন্ডারে বড় হয়েছে। ওদেরকে আমি গড়ে তুলেছি, ওরা সবাই আমার হাতে গড়া প্লেয়ার।’

‘আমি বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতেছি। তারপরেও যদি আমি দেশের হয়ে দায়িত্ব পাই অবশ্যই করব, দেশ সবার আগে। তবে দেশের মধ্যে বিসিবির হয়ে কেউ আমাকে কখনো কিছু বলেনি কোচিং নিয়ে।’


ইউটি/টিএ 

মন্তব্য করুন