© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আতলেতিকোর মাঠে জিতেও বার্সেলোনার বিদায়

শেয়ার করুন:
আতলেতিকোর মাঠে জিতেও বার্সেলোনার বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫১ এএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
প্রাণপন চেষ্টা, মাঠজুড়ে দাপট আর ২-১ ব্যবধানের জয়—সবই পেল বার্সেলোনা। তাতেও কাটল না প্রথম লেগের আক্ষেপ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে বার্সা। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

অন্যদিকে, প্রথম লেগের সেই ২-০ ব্যবধানের জয়ই শেষ পর্যন্ত আতলেতিকো মাদ্রিদকে পৌঁছে দিল সেমিফাইনালের মঞ্চে। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে গেল বার্সা।

মাদ্রিদের মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ফিরতি লেগের কিক অফের ৩০ সেকেন্ডে জাত চেনান লামিন ইয়ামাল। আতলেতিকোর ডি-বক্সের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান স্পেন ফরোয়ার্ড। এরপর বুলেট গতির শট নেন এবং বলটি পোস্টের একদম কোণা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল, কিন্তু গোলকিপার হুয়ান মুসো হাত বাড়িয়ে কোনোমতে রুখে দেন তা।

ভক্তদের অবশ্য বেশিক্ষণ আফসোসে রাখেননি ইয়ামাল। চতুর্থ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ফেরান তোরেসের দেওয়া ক্রসের সূত্র ধরে আবারও গর্জন তোলেন তিনি। এরপরন মুসোকে বোকা বানিয়ে জালে বল পাঠান। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ইয়ামালের ষষ্ঠ গোল।

অষ্টম মিনিট শোধের উপলক্ষ্য পায় আতলেতিকো। তবে আদেমোলা ‍লুকমানের বাঁ-পায়ের শটে ছিল না গতি। তার চেয়েও বড় হুলিয়ান আলভারেজের পাস পড়তে পারেননি নাইজেরিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

নবম মিনিটের আগে বার্সা আবারও আতলেতিকোর রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে পড়ে। রক্ষণভাগের পেছন দিয়ে আসা বলটি তাড়া করছিলেন দানি ওলমো। গোলরক্ষক মুসো শুরুতে কিছুটা পিছলে গেলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে (ইন দ্য নিক অফ টাইম) নিজেকে সামলে নেন এবং ওলমোর চিপ করা শটটি (ডিনকড অ্যাটেম্পট) রুখে দেন দারুণ দক্ষতায়।



২৩তম মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এবারের নায়ক ফেরান তোরেস। ওলমোর ক্রস থেকে বাঁ পায়ের ঝলক দেখান স্পেন ফরোয়ার্ড। রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের মাঝে সামান্য ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ওলমো। এরপর দুর্দান্ত এক পাসে বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। যিনি তরতরিয়ে চলে যান পোস্টের কাছে। গোলপোস্ট থেকে কিছুটা কোণাকুণি অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও তোরেস নিখুঁতভাবে পায়ের জাদুতে বলটি বাঁক খেয়ে গোলরক্ষক মুসোকে পরাস্ত করে। মুহূর্তেই টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ায় বল। তাতেই মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়াম যেন নিস্তব্ধতায় জমে যায়।

আগের ম্যাচে লা লিগায় জোড়া গোল আদায় করা এই ফরোর্য়াড এবার সাফল্য পান চ্যাম্পিয়নস লিগে। লিগে এটি তার তৃতীয় গোল।

২৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বার্সেলোনার। লামিন ইয়ামালের ট্রাভেলা শট থেকে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন ফেরমিন লোপেজ। উল্টো বিপত্তি বাঁধে মুসোর পা সারাসরি তার মুখে আঘাত করলে। তখন ফেরমিনের নাক দিয়ে ঝরঝরিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।

৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। ডান প্রান্ত দিয়ে একাই বল দিয়ে আক্রমনে ওঠেন ইয়োরেন্তে। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি বল বাড়িয়ে দেন দ্রুত গতিতে ছুটে আসা লুকমানের দিকে। লুকমান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক গার্সিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনে শেষ হয় প্রথামার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা মুহূর্তে সুবিধা আদায় করে অতিথিরা। ৫৪তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল খুঁজে পান গাভি। গোল লক্ষ্য করে নেওয়া তার শটটি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে সরাসরি চলে যায় তোরেসের কাছে। কোনো কিছু না ভেবেই সহজাত ভঙ্গিতে দুর্দান্ত এক ভলিতে টপ কর্নার দিয়ে জালে লক্ষ্যবেদ করেন তিনি। তবে দুর্ভাগ্য বলতেই হয় বার্সেলোনাকে। ভিএআর চেকে অফসাইট ধরা পড়ে এবং বাতিল হয় এই গোল।

৬৮ মিনিটে ফেরান তোরেস ও ফারমিন লোপেজকে উঠিয়ে রবার্ট লেভানডফস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে নামা ফ্লিক। পরের মিনিটেই রুগিরিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড কনসিভ করেন গাভী। ম্যাচে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রক্তঝরার মতো ঘটনা ঘটে।

৭৩তম মিনিটে গার্সিয়া বড় বিপদ থেকে বাঁচান কাতালানদের। লে নরম্যান্ডের জোরাল শট ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলকিপার। এরপর আরও একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন গার্সিয়া।

৭৫তম মিনেট গ্রিজম্যানকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। বদলি হিসেবে সরলথকে নামান থিয়াগো সিলভা। ভাগ্যদেবী সহায় করেই হয়তো নেমেছিলেন সরলথ। নরয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডকে ফাউল করার কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এরিক গার্সিয়াকে। ফার্স্ট লেগেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ দশজন নিয়েই খেলে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় লেগেও একই পরিণতি হলো তাদের।

দশ জনের সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগায় আতলেতিকো। মুর্হুমুহু আক্রমণ শানায় তারা। ৮৭তম মিনিটে মোলিনা গোলের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একাই আক্রমণে ওঠেন তিনি। তার ফিনিশিং সুন্দর না হলেও আতলেতিকোর শেষটা অবশ্য সুন্দর হয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে অ্যাগ্রিগেট বিচারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে সিমিওনের দল। 

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন