© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এবার সরকারিভাবে মুজিবনগর দিবস পালন হচ্ছে না

শেয়ার করুন:
এবার সরকারিভাবে মুজিবনগর দিবস পালন হচ্ছে না

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৭ এএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। স্বাধীনতার সূতিগার হিসেবে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলাকে মুজিবনগর নামকরণ করে তৎকালীন অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়। ওই দিন বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র। সেই তাৎপর্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবছর সরকারিভাবে পালন করা হতো দিনটি। তবে এ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি নেই দিনটিতে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও ইতিহাসের সাক্ষী শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই।

২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হবার পর মুজিবনগর ইপিআর ক্যাম্পের দায়িত্ব নেন ১২ আনসার সদস্য। ভারত থেকে আসা যুদ্ধের রসদ সামগ্রী সংগ্রহ করে সেগুলো তৎকালীন এসডিও তৌফিক এলাহীর হাতে তুলে দিতেন। পরে সেগুলো চলে যেতো দেশের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে।

১৯৭০ সালে পাকিস্তান নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় যা প্রবাসী সরকার নামেও পরিচিত। আর এই সরকারের শপথ অনুষ্ঠান জরুরি হয়ে পড়লে তারা নিরাপদ স্থান হিসেবে মুজিবনগরকে বেছে নেয়।

১৬ ই এপ্রিল তৎকালীন এসডিও তৌফিক এলাহির নির্দেশে সংগ্রাম কমিটি ও গ্রামবাসীদের সহায়তায় বর্তমান মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে কয়েকটি চৌকি এনে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। ঐদিন রাতেই ভারতীয় সৈন্য ঘিরে ফেলে পুরো মুজিবনগর আম্রকানন।

পরদিন সকালে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথ তলায় আসেন জাতীয় চার নেতা। সাথে আসেন দেশি-বিদেশি অনেক সাংবাদিক। সেখানে জাতীয় চার নেতা শপথ নেন এবং ১২ আনসার সদস্য গার্ড অব অনার প্রদান করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেতৃবৃন্দ ভারত গমন করেন।

ঐদিন শপথবাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসূফ। আর গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন এসপি মাহাবুব। বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে কয়েক দিনের জন্য তারা অবস্থান নেন ইপিআর ক্যাম্পে। পরে তারা তৌফিক এলাহীর নির্দেশে চলে যান ভারতে। সেখান থেকেই তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

সেদিনের ঐ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাকের আলী বলেন, ‘৭১ কে বাদ দিয়ে কোনো কিছু চিন্তা করাই সমুচীন নয়। পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন দেশের জন্য বড় একটি অর্জন। দেশের সরকারের উচিত এই অর্জন যাতে কোনোভাবেই ভূলুণ্ঠিত না হয়। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম রয়েছে তারা অবশ্যই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মনে রাখবে। এটি সরকারিভাবে পালন না হওয়া দুঃখজনক। আর এটি পালন বন্ধ হয়ে গেলে আগামী প্রজন্ম ভুলতে বসবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। তাই প্রতিটি সরকারের উচিত দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দিনটি পালন করা।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও লেখক রুফিকুর রশীদ রিজভি বলেন, ‘১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের সাংবিধানিক সরকার। এই সরকারের শপথ না হলে বিশ্বে আমরা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পেতাম। ১৯৬৯ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুস বিজয়ের পর সরকার গঠনের অধিকার লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী তা মেনে নিতে পারেনি। আর এ সরকারের অধীনেই দেশ স্বাধীন হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারের নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। পরাধীনতার একটি দেশ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়। সেই কারণে মুজিবনগরকে বলা হয় স্বাধীনতার আতুর ঘর। এখন বাবা যদি সন্তানকে অস্বীকার করেন তাহলে বলার কিছুই থাকে না। মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে লালন করেছে। তাদের নেতৃত্বেই সারা দেশে ১১ টি সেক্টরে যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে এই সরকারের হাতেই। পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তাই মুজিবনগর সরকারকে অস্বীকার করা মানেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকেই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।’

এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে নেওয়া হয়নি কোনো প্রস্তুতি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। মুজিবনগর দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের দাবি তাদের।

জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মুজিবনগর দিবস পালনের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দিলেই তা পালন করা হবে। আর কোনো নির্দেশনা না পেলে দিবসটি পালন করা হবে না।’

টিজে/টিএ

মন্তব্য করুন