© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মিয়ানমারে অং সান সু চির সাজা কমাল জান্তা সরকার

শেয়ার করুন:
মিয়ানমারে অং সান সু চির সাজা কমাল জান্তা সরকার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৫ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
মিয়ানমারে কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সু চির আইনজীবী। তবে সাজা প্রায় সাড়ে চার বছর কমানো হলেও ৮০ বছর বয়সি এই নোবেলজয়ী নেত্রীকে মুক্তি দেওয়া হয়নি, বরং তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে এখনও বন্দি করে রাখা হয়েছে।

সু চি এর আগে দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনি জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। যদিও তার সমর্থক ও আন্তর্জাতিক মহল শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। 

শুক্রবার মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দেশজুড়ে ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা প্রদানের যে ঘোষণা দেন, সেই তালিকায় সু চির নাম ছিল না। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, এই ক্ষমার আওতায় কেবল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা ৪০ বছরে কমিয়ে আনা হয়েছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ম্যারাথন বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সু চিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে বলে গত বছর তার ছেলে কিম অ্যারিস উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ছয় মাসের মধ্যে এটি মিয়ানমারের তৃতীয় দয়াপরবশত গণমুক্তির ঘটনা। এর আগে নভেম্বর ও জানুয়ারিতে পৃথক দুটি সাধারণ ক্ষমায় প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও সু চি প্রতিবারই বাদ পড়েছেন। 

গত ৩ এপ্রিল মিন অং হ্লাইং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম সাধারণ ক্ষমা। দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স-এর তথ্যমতে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সু চি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে রাজনৈতিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে। 

বর্তমানে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলমান থাকায় প্রায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।



ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন