© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের ফের হামলা

শেয়ার করুন:
চবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের ফের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১১ এএম | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ফের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সময় টিভির প্রতিনিধি ও শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিন আবির সরকার গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সাথে জড়িত হামলাকারীদের একজন মোহাম্মদ ইমন, যার নামে আগেও থানায় মামলা রয়েছে। তিনি স্থানীয় ফকিরাহাট এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ঘটনাস্থল না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১ নম্বর গেট সংলগ্ন ইসলামিয়া হোটেলে খাবার খেয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৭ জন শিক্ষার্থী ৩ নম্বর বাসে উঠছিলেন। বাসে উঠার সময় তাদের মধ্য কিছুটা চিৎকার-চেঁচামেচি হয়।

হঠাৎ এক ব্যক্তি তাদের চিৎকার করার কারণ জানতে চাইলে তারা এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আওয়াজ করলে সমস্যা কোথায়? তখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিন আবির ঘটনা ধারণের জন্য ক্যামেরা বের করলে, তাকে ক্যামেরা বের করার কারণ জিজ্ঞাসা করে এক ব্যক্তি কাঠ দিয়ে হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় আলিমূল শামীম, আশিকুর রহমান ও জাহিন আবির আহত হন। গুরুতর আহত জাহিন আবিরকে চমেকে পাঠানো হয় এবং আশিকুর রহমানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। প্রত্যক্ষদর্শী যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমরা বাসে ওঠার সময় এটি হয়। তখন স্থানীয় একজন চিৎকারের কারণ জানতে চায়। পরে হঠাৎ করেই হামলা চালায়। জাহিন আবির ভিডিও করতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়।’

চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে আমরা অবগত করেছি। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

কর্মসূচিতে চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ঘটনা নতুন নয়। আমাদের ক্ষত এখনো শুকায়নি। আমরা শুধু আশ্বাসই পেয়ে যাচ্ছি। আর কত রক্ত দেব, আর কত শিক্ষার্থী মার খাবে?’

শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ভিপি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে শাস্তির অভাবে। প্রতিটি ঘটনার পর আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু কিছুদিন পর অভিযুক্তরা আবার বেরিয়ে আসে। স্থায়ী সমাধান না হলে আমরা সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগব। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত ডাঃ মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘জাহিন আবিরের বাম হাতের উপরের দিকে আঘাত পেয়েছে। যার কারণে তার এক্স-রে করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আমরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেই। আশিকুর রহমানের ঘাড় ও হাতে আঘাত পাওয়া গেছে। আমরা আপাতত রাতে তাকে এখানেই রাখবো অবজারভেশনের জন্য।’

হাটহাজারী থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এর আগেও এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের সময় দিন।’

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন