টলিউডে নারীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন, মুখ খুললেন তিন অভিনেত্রী
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৮ এএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
সমাজে নারীর অবস্থান যেমন, বিনোদন জগতেও তার প্রতিফলন এমনটাই মনে করেন টলিউডের একাধিক অভিনেত্রী। নারী-পুরুষ সমানাধিকারের প্রশ্নে যখন দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন বাংলা চলচ্চিত্র জগতেও উঠে আসছে একই প্রশ্ন ক্ষমতার বিচারে নারীরা কি এখনও পিছিয়ে?
দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে টলিউডে কাজ করে চলেছেন অপরাজিতা আঢ্য। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য আলাদা জায়গা বরাবরই ছিল, এখনও আছে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা সর্বত্রই নারীকেন্দ্রিক চরিত্র তৈরি হয়। তবে বাস্তবের ছবি একেবারে নির্ভুল নয়। অভিনেত্রীর কথায়, রাজনীতি ও সুযোগসন্ধানিতা দুই ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ উভয়েই শিকার হন। তবুও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তিনি এমনও দেখেছেন, কোনও পুরুষ সহকর্মীর কারণে কাজ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে তাকে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ মুহূর্তে কাজ কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বারবার। তাঁর আক্ষেপ, কাজ বাতিলের স্পষ্ট কারণ জানানোর সাহস অনেকেরই থাকে না।
অন্য দিকে রূপাঞ্জনা মিত্র মনে করেন, এই বৈষম্যের শিকড় শুধুমাত্র টলিউডে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা সমাজেই প্রোথিত। তার কথায়, নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে সমাজের এক ধরনের অস্বস্তি এখনও কাজ করে। ফলে যে কোনও পেশাতেই নারীদের নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে হয় লড়াই করেই। ব্যক্তি, কর্মী কিংবা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেককেই সেই লড়াইয়ে শামিল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

একই সুর শোনা যায় ঊষসী চক্রবর্তীর কথায়। তার মতে, সমাজ যদি পিতৃতান্ত্রিক হয়, তবে তার প্রভাব বিনোদন জগতে পড়বেই। যদিও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সরাসরি বৈষম্যের মুখে পড়েননি তিনি, তবুও সামগ্রিক কাঠামো যে পুরুষতান্ত্রিক, তা অস্বীকার করেন না। বরং তিনি মনে করেন, টেলিভিশন মাধ্যম তুলনামূলকভাবে বেশি গণতান্ত্রিক, যেখানে নারীকেন্দ্রিক চরিত্রের আধিক্য দেখা যায়।
তবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিকও তুলে ধরেছেন ঊষসী পর্দায় নারীদের নির্যাতিত রূপে দেখালে দর্শকের আগ্রহ বাড়ে, যা নির্মাতাদের ভাবনায় প্রভাব ফেলে। ফলে বাস্তব ও বিনোদনের সীমারেখা কোথাও গিয়ে মিশে যায়।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, টলিউডে নারীদের অবস্থান একরৈখিক নয়। সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা দুই-ই পাশাপাশি চলেছে। ব্যক্তিগত লড়াই, সামাজিক কাঠামো এবং ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা মিলিয়ে গড়ে উঠছে এই জটিল চিত্র, যেখানে সমানাধিকারের প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মেটেনি।
পিআর/টিকে