সিনেমা যে বাধার মুখে পড়বে বিজয় জানত: চন্দ্রশেখর
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৭ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
বড় পর্দায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়লেও বাস্তব জীবনে রাজনীতির মাঠে নেমেই যেন অদৃশ্য বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে থালাপাতি বিজয়কে। গত ৯ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল এই তারকা অভিনীত নতুন সিনেমা ‘জন নায়াগান’। কিন্তু বিজয় ভক্তদের উচ্ছ্বাসে জল ঢেলে দিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানায় পূর্বনির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাচ্ছে না সিনেমাটি। এরপর কেটে গেছে অনেকটা সময়। এখনো সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র মেলেনি। কেবল তা-ই নয়, কিছুদিন আগে সিনেমাটির এইচডি প্রিন্ট অন্তর্জালে ফাঁস হয়। এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।
সিনেমাটি নিয়ে সেন্সর বোর্ডের আপত্তি ও অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে ভুল করছেন না বিজয়ের ভক্তরা। তাদের দাবি রাজনীতিতে পা রাখার কারণেই এই জটিলতায় পড়েছেন বিজয়। এ নিয়ে বিজয় নিজে কিছু না বললেও মুখ খুলেছেন তার বাবা নির্মাতা ও প্রযোজক এস এ চন্দ্রশেখর।
আলাপচারিতার শুরুতে তিনি বলেন, ‘এটা বলবেন না যে আপনি সমস্যাগুলো আশাই করেননি। বিজয় যখন সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হয় তখন প্রযোজককে সে বলেছিল আপনি এমন সময় সিনেমাটি বানাচ্ছেন যখন আমি রাজনীতিতে পা রাখতে যাচ্ছি। আশা করি আপনি জানেন এই সিনেমা কী ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।’
সিনেমাটি নিয়ে যে ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত নয় বলে মনে করেন চন্দ্রশেখর। তিনি বলেন, ‘বিজয় জানত বাধা আসবে। এ জন্য বিষয়টি আগেই বলেছিল। সবই আগে থেকে অনুমান করা হয়েছিল। আমরা অবাক হইনি।’
‘জন নায়াগান’ সিনেমার পাইরেসি ইস্যু নিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অপরাধী আগে হৃদয়ে আঘাত করে, তারপর আর্থিক দিকটাকে ভেঙে দেয়।’ বিজয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে সিনেমাটি ফাঁস হয়েছে বলে যে জল্পনা চলছে তা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের এমনটা ভাবা স্বাভাবিক, তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করা উচিত নয়।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী সিনেমাটির মুক্তি আটকে যাওয়ার কোনো কারণ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। তবে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন বা সিবিএফসি ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত সহিংসতা নিয়ে প্রথমে আপত্তি জানায় বোর্ডের সদস্যরা এবং কয়েকটি দৃশ্য কাটছাঁট করার নির্দেশ দেন। পরে তা সংশোধন করে জমা দেওয়া হয়।
তবে শেষ মুহূর্তে বোর্ডের একজন সদস্য নতুন করে আরও কিছু আপত্তি তোলেন। এর মধ্যে প্রধান আপত্তি হলো সিনেমাটির কয়েকটি দৃশ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতীক ব্যবহার। এ বিষয়ে বোর্ডের মত ব্যাখ্যা ও সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। বিষয়টি বিদ্যমান নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে কি না তা নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সেন্সরের বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। প্রযোজকরা আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছেন সহিংসতা সংক্রান্ত প্রাথমিক কাটছাঁটের পর ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তাদের জানানো হয়েছিল যে সিনেমাটি ইউ এ সার্টিফিকেট পাবে। তবে নতুন আপত্তি আসায় বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন স্থগিত রাখা হয়েছে।
‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগম’ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজয়। এই রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার পাশাপাশি এইচ বিনোত পরিচালিত ৩০০ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমার শুটিং করেন তিনি। সিনেমাটিতে বিজয়ের বিপরীতে দেখা যাবে পূজা হেগড়েকে। এ ছাড়া আরও অভিনয় করছেন ববি দেওল, শ্রুতি হাসান, প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি ও মমিতা বাইজু।
এসএন