জনপ্রিয়তায় তলানিতে মাইকেল জ্যাকসনের নতুন বায়োপিক
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১০ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে নির্মিত নতুন বায়োপিক মাইকেল বক্স অফিসে ভালো করলেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রিভিউ পাওয়া বায়োপিকগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
এই চলচ্চিত্রটি রিভিউ-সংগ্রাহক সাইট রোটেন টমেটোস-এ শুরুতে মাত্র ২৭ শতাংশ ‘ফ্রেশ’ রেটিং পেয়েছে। যদিও পরে তা বেড়ে ৩৪ শতাংশে এ উঠেছে। এর তুলনায় এ কমপ্লিট আননোন ৮২ শতাংশ, বেটার ম্যান ৮৯ শতাংশ এবং অস্কারজয়ী ওপেনহাইমার ৯৩ শতাংশ পেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া দ্য এপ্রিয়েন্টিস ৮২ শতাংশ, প্রিছিলা ৮৪ শতাংশ এবং ফেরারি ৭৩ শতাংশ পজেটিভ রিভিউ পেয়েছে। এসব বায়োপিকও মাইকেলের চেয়ে অনেক ভালো করেছে।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ভালো প্রশংসা না পাওয়া আই ওয়ান্না ড্যান্স উইথ সামবডি ৪৩ শতাংশ এবং ব্যাক টু ব্ল্যাক ৩৫ শতাংশ রিভিউ পেয়েছে। এসব বায়োপিকও মাইকেল থেকে এগিয়ে রয়েছে। কেবল রিগ্যান ১৮ শতাংশ রিভিউ নিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনা সত্ত্বেও ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্যের পথে রয়েছে। ডেডলাইন জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী এর ওপেনিং আয় প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। এছাড়া এটি যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি আয় করে মিউজিক্যাল বায়োপিকের মধ্যে সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়তে পারে।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া। এতে তিনি জ্যাকসনের শৈশবের ৫ বছর থেকে শুরু করে তার একক ক্যারিয়ারের শুরু পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। তার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জেফার জ্যাকসন।
সমালোচকদের বড় অভিযোগ, ছবিটিতে জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলো, বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। বিবিসি নিউজ ছবিটিকে বলেছে ‘নীরস ও খুবই সাধারণ মানের’ বলে উল্লেখ করেছে। আর ডেইলি মেইল এটিকে ‘অত্যন্ত সাদামাটা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাওয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
ভ্যারিটির তথ্য অনুযায়ী, ছবির মূল সংস্করণে জ্যাকসনের নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চে তদন্তকারীদের আগমনের দৃশ্য এবং অভিযোগ-পরবর্তী ঘটনাগুলো ছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, এক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পুরো সেই অংশ বাদ দিতে হয় এবং নতুন সমাপ্তি শুট করতে হয়। যার কারণে ছবির মুক্তি প্রায় এক বছর পিছিয়ে যায়।
জ্যাকসনের পরিবারের ভেতর থেকেও ছবিটি সমর্থন পায়নি। তার বোন জানেট জ্যাকসন এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তার মেয়ে পেরিস জ্যাকসনও ছবিটির সমালোচনা করে বলেন, এটি ‘অসৎ’ এবং বাস্তবতার বিকৃত উপস্থাপন।
তিনি বলেন, এই ধরনের বায়োপিক আসলে হলিউডের ফ্যান্টাসি, বাস্তব নয়। কিন্তু এটিকে বাস্তব হিসেবে দেখানো হলে সেখানে অনেক তথ্য বিকৃত বা পুরোপুরি মিথ্যা থাকে।
কেএন/এসএন