এক ইঞ্চি জমিরও রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৭ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি জানিয়েছেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও বেদখল হওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন থেকে সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারদের আর কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিস কক্ষে চা-বাগান ব্যবস্থাপনা এবং গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩ সম্পর্কিত এক অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন।
সভায় হবিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জেলার চা-বাগানগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। চা-বাগান ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘সারাদেশে ১৬৬টি চা-বাগানের মোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৬ একর জমির মধ্যে চা চাষযোগ্য ও অনুপযোগী জমি এবং অন্যান্য ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত জমির পরিমাণের পৃথক ও সঠিক তথ্য দ্রুত প্রদান করতে হবে।’
এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যেসব চা-বাগান থেকে বিগত ১৩ বছর সরকার কেন কোনো রাজস্ব পেল না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। যারা অবৈধভাবে এযাবৎকাল সরকারের পাওনা পরিশোধ করেনি, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা চাই দেশের এক ইঞ্চি জমিও যাতে বেহাত না হয়। সরকারি জমি জবরদখল করে রেখে রাজস্ব দেয়া হবে না, এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’ বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী ‘গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩’ এর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। সভায় জানানো হয়, প্রায় ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি খুব শিগগিরই একনেক সভায় উপস্থাপিত হবে। প্রকল্পের আওতায় সমতল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের জন্য পৃথক মডেলে ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, যুগ্মসচিব জহিরুল ইসলাম, উপসচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. আশ্রাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসকে/টিকে