৭৫ বছরে চলে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৬ পিএম | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ‘অটোইমিউন ডিজ়িজ়’-এ ভুগছিলেন। গত দেড় বছর যাবৎ তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ক্ষীণ ছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
বিপ্লববাবুর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, শুক্রবার সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত দুপুরে সব লড়াই শেষ হয়ে যায়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর পেশাগত জীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করতেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। তবে সৃজনশীলতার টানে পরবর্তীকালে তিনি সাহিত্য, নাট্যজগৎ ও ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়ায় পা রাখেন। ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট এবং বিজ্ঞাপন জগতে কাজের পর অভিনয়কেই নিজের মূল পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অফ টাইম’ ছবির মাধ্যমে তার বড় পর্দায় পথচলা শুরু হয়। এরপর ‘বাইশে শ্রাবণ’ (২০১১), ‘৮৯’ (২০১৫), ‘ফেলুদা’ (২০১৭) এবং ‘গুমনামি’ (২০১৯)-র মতো জনপ্রিয় ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে তার বলিষ্ঠ অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে তিনি কাজ করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গেও। ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে তাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, মহানায়ক উত্তম কুমার এবং তার ভাই তরুণ কুমারের সঙ্গেও গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল অভিনেতার। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তার অনুরাগী ও সহকর্মীরা।
সিনেমা থেকে টেলিভিশন দুই মাধ্যমেই তার সাবলীল যাতায়াত ছিল। ২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ় অফ টাইম’ ছবির মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামি’ কিংবা ‘ফেলুদা’র মতো ছবিতে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে তার অভিনয়ের স্মৃতি।
বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার দর্শকদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। সাম্প্রতিককালে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠিঝোরা’-তে তার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সার্থক-এর বাবা অর্থাৎ মৈনাক ঢোলের চরিত্রে তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি কাহিনিতে এক আলাদা গভীরতা যোগ করেছিল। ‘মিঠিঝোরা’র সেটে তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং পেশাদারিত্ব নবীন প্রজন্মের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার মতো।
শৈল্পিক নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিত্বের গাম্ভীর্য এই দুইয়ের মিশেলে তিনি বাংলা সংস্কৃতি জগতের এক অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন। তার প্রয়াণে টলিউড এবং নাট্যজগতের বহু ব্যক্তিত্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলার শিল্পকলা জগৎ হারাল তার এক কৃতি সন্তানকে।
পিআর/টিকে