অভিনেত্রী পূজা চেরীর বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৩ পিএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
চলচ্চিত্র প্রযোজনার নামে ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বাবা দেবু প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলচ্চিত্র প্রযোজনার কথা বলে দেবু প্রসাদ রায় তাঁর বন্ধু মিজানুর রহমানের কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৩ কোটি ২০ লাখের বেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আর সেই টাকা ভুক্তভোগীকে ফেরত দেননি।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটার বাসায় এসে দেবু প্রসাদ রায় নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে একই ব্যবসার কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ এবং ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে নগদ ৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্তর অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠান তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযুক্ত দেবু প্রসাদ রায়। দীর্ঘদিন পার হলেও তিনি কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে নানা ধরনের তালবাহানা করেন এবং পরে হুমকি দিতে থাকেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৭ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরে অভিযুক্তকে দেখতে পেয়ে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৈপায়ন মণ্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ অভিযোগের বিষয়ে দেবু প্রসাদ রায়কে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। বাবার অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে পূজা চেরী বলেন, ‘আপনারা যে অভিযোগ কিংবা মামলার বিষয়ে কথা বলছেন, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। আপনারা আমাকে টানবেন না। প্রথম কথা হচ্ছে, মামলাটির তদন্ত চলমান। বিষয়টি আমার পরিবারকেন্দ্রিক হলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমার জানা নাই। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।’
বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।’
পিআর/টিকে