© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ছুরি দেখিয়ে অভিনেত্রীর অটোগ্রাফ নিয়েছিলেন ডাকাত

শেয়ার করুন:
ছুরি দেখিয়ে অভিনেত্রীর অটোগ্রাফ নিয়েছিলেন ডাকাত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৯ এএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মীনা কুমারী, যিনি ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ হিসেবে পরিচিত। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে তার অভিনয় ও সৌন্দর্য যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করত, তেমনি তার জনপ্রিয়তার প্রভাব ছিল অবিশ্বাস্য। একবার মধ্যপ্রদেশের চম্বলের এক দুর্ধর্ষ ডাকাত ছুরি দেখিয়ে খোদ মীনা কুমারীর অটোগ্রাফ আদায় করে নিয়েছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর স্মৃতিটি পুনরায় উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ছিল মীনা কুমারীর কালজয়ী সিনেমা ‘পাকিজা’র শুটিং চলাকালীন। সিনেমার পরিচালক ও স্বামী কামাল আমরোহীর সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী যাচ্ছিলেন মীনা কুমারী। পথিমধ্যে চম্বলের জঙ্গলে তাদের গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। জনমানবহীন সেই স্থানে হঠাৎ কয়েকটি গাড়ি এসে তাদের ঘিরে ধরে এবং একদল সশস্ত্র ডাকাত গাড়ি থেকে নেমে আসে।

ডাকাতদের দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মীনা ও কামাল। সে সময় ডাকাত দলের সর্দার অমৃত লাল চম্বল তাদের পরিচয় জানতে চান। কামাল আমরোহী নিজের পরিচয় দিয়ে জানান যে তারা শুটিংয়ের জন্য এসেছেন। ‘শুটিং’ শব্দটি শুনে প্রথমে ডাকাতরা খেপে যায়, কারণ তারা ভেবেছিল পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালাতে এসেছে। পরে কামাল আমরোহী বুঝিয়ে বলেন যে তারা সিনেমার শুটিং করতে এসেছেন।

পরিচয় জানার পর অমৃত লাল কিছুটা শান্ত হন এবং জানতে পারেন অন্য গাড়িতে মীনা কুমারী বসে আছেন। অমৃত লাল ছিলেন মীনা কুমারীর একজন অন্ধ ভক্ত। তিনি অবিলম্বে অভিনেত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবি জানান এবং তার অটোগ্রাফ চান। কিন্তু সঙ্গে কলম বা কাগজ না থাকায় নিজের হাতের ছুরি বের করেন অমৃত লাল। এতে মীনা কুমারী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ডাকাত সর্দার বলেন, মীনা কুমারী যদি ছুরি দিয়ে তার হাতে নিজের নাম লিখে দেন, তবেই তিনি তাদের গাড়ি ছাড়বেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই ছুরি দিয়ে ডাকাতের হাতে নিজের নাম খোদাই করে অটোগ্রাফ দেন মীনা কুমারী। এরপর সেই ডাকাত সর্দার নিজের লোক দিয়ে গাড়িতে পেট্রোল ভরে তাদের চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

উল্লেখ্য, শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা মীনা কুমারী ‘সাহেব বিবি অউর গোলাম’, ‘বৈজু বাওরা’, ‘কাজল’ ও ‘আজাদ’-এর মতো অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বিষাদময়। স্বামী কামাল আমরোহীর সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং একাকিত্বের কারণে তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে এই কালজয়ী অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন