© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বৃথা গেল বৈভবের সেঞ্চুরি, বিশাল রান তাড়া করে জিতল হায়দ্রাবাদ

শেয়ার করুন:
বৃথা গেল বৈভবের সেঞ্চুরি, বিশাল রান তাড়া করে জিতল হায়দ্রাবাদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১২ এএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
আইপিএল যেন আজ হয়ে উঠেছিল ক্যাচ মিসের এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। দিনের প্রথম ম্যাচেই তার ঝলক দেখা যায়। দুপুরের খেলায় দু’দুবার জীবন পেয়ে ১৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইনিংসে পঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ক্যাচও একবার নয়, দু’বার হাতছাড়া হয়। সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয় দিল্লি ক্যাপিটালসকে— ২৬৪ রানের বিশাল স্কোর করেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি তারা।

সন্ধ্যার ম্যাচেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি। রাজস্থানের ফিল্ডাররা বৈভব সূর্যবংশীর গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ফেলে দিলেন, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ৩৬ বলেই সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। তবুও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। ২২৯ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) জয়পুরে ব্যাট হাতে ঝড় তোলে রাজস্থানের বৈভব সূর্যবংশী। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ২২৮ রান। সূর্যবংশীকে দারুণ সঙ্গ দেন ধ্রুব জুরেল, তিনি খেলেন ৫১ রানের ইনিংস।

তবে এত বড় স্কোর করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি রাজস্থান। হায়দরাবাদ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে রান তাড়া করে ৯ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। তাদের ইনিংসে বড় অবদান রাখেন অভিষেক শর্মা (৫৭) ও ঈশান কিশান (৭৪)। ফলে বৈভবের দুর্দান্ত শতরান শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়।

এই ম্যাচে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের এক আলাদা রংও ছিল। ১২ দিন আগে বৈভবকে আউট করে প্রফুল্ল হিঙ্গে বলেছিলেন, তিনি নাকি ম্যাচের প্রথম বলেই আবার তাকে ফেরাবেন— সেই কথাই মনে গেঁথে রেখেছিলেন বৈভব। ইনিংসের শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা যায়। প্রফুল্লের করা প্রথম ওভারেই টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে জবাব দেন তিনি। সেই আগ্রাসী শুরুই যেন তার ইনিংসের সুর বেঁধে দেয়, এরপর আর তাকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।

অবশ্য ইনিংসের মাঝপথে হায়দরাবাদের সামনে বড় সুযোগ এসেছিল। ঈশান মালিঙ্গার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ৩৪ রানে ক্যাচ দিয়েছিলেন বৈভব। কিন্তু অনিকেত বর্মা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি— বল ধরতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে পা লেগে যায়, ফলে বেঁচে যান বৈভব। আর সেই জীবনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন।

মাত্র ১৫ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বৈভব, ছক্কা মেরে পৌঁছন মাইলফলকে। চলতি আইপিএলে এটি ছিল তার তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস— চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর পর হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও একই কীর্তি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তিন ক্ষেত্রেই ১৫ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেছেন তিনি। আগের দু’বার অর্ধশতরানের পর থেমে গেলেও, এদিন যেন অন্য লক্ষ্য নিয়েই নামেন বৈভব।

অবশেষে একটি বিশাল ছক্কায় শতরান পূর্ণ করে জানান দেন নিজের জবাব। তবে পরের বলেই রিভার্স স্কুপ খেলতে গিয়ে মিস করেন, এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয়। ৩৭ বলে ১০৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি হাঁকান ৫টি চার ও ১২টি ছক্কা। গত বছর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৩৫ বলে নিজের প্রথম আইপিএল শতরান করেছিলেন বৈভব। এ বার সেই রেকর্ড ছুঁতে লাগল এক বল বেশি। তবুও তার ব্যাটিং প্রমাণ করে দিল কেন তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজস্থানের আরেক ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল এদিন ব্যর্থ হন, মাত্র ১০ রানেই থামতে হয় তাকে। তবে বৈভবকে যোগ্য সঙ্গ দেন ধ্রুব জুরেল। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকা জুরেল ৩৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৫১ রান করে নীতীশ রেড্ডির শিকার হন। দু’জনে মিলে ৬২ বলে ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।

রাজস্থানের অধিনায়ক রিয়ান পরাগের ব্যাট আবারও নিশ্চুপ থাকে। মাত্র ৭ রানেই তাকে ফেরান হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বৈভব ও জুরেল ক্রিজে থাকাকালীন মনে হচ্ছিল ২৫০ পেরিয়ে যাবে স্কোর, কিন্তু শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় সেই গতি কমে যায়। শেষমেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রানেই থামে রাজস্থান। শেষের দিকে ডোনোভান ফেরেইরার ১৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংস কিছুটা গতি যোগ করলেও, তা আরও বড় স্কোর গড়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন