© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অনলাইনে যৌন হেনস্থার হুমকির আক্রমণে ক্ষুব্ধ রূপাঞ্জনা

শেয়ার করুন:
অনলাইনে যৌন হেনস্থার হুমকির আক্রমণে ক্ষুব্ধ রূপাঞ্জনা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১০ পিএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
রাজনৈতিক দল বদলের পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ। অভিনেত্রী দাবি করেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়ার কারণে তাঁকে শুধু কটুভাষায় আক্রমণ নয়, ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁর বৃদ্ধা মা-কেও রেহাই দেয়নি ট্রোলাররা। এই প্রেক্ষাপটে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে ফের একবার বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিনেত্রী।

রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়, কিন্তু রূপাঞ্জনা মিত্রের ক্ষেত্রে তা যেন এক চূড়ান্ত ব্যক্তিগত সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিনেত্রীর দিকে ধেয়ে আসছে একের পর এক আক্রমণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রূপাঞ্জনা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন, বিজেপির সমর্থকরা তাঁকে অশালীন গালিগালাজ তো বটেই, এমনকি ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে।

রূপাঞ্জনার অভিযোগ, যে দল নারী সুরক্ষা নিয়ে এত সরব, তারাই আজ একজন নারীকে এভাবে হেনস্থা করছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, "আপনারা না দাবি করেছিলেন যে রাত দখল করেছেন? অভয়া নিয়ে কথা বলেন? আর আমিও তো একজন নারী, সেখানে আমাকে এগুলো কী করে বলছেন?"



তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশে। অভিনেত্রীর কথায়, "আপনারা যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা নিজেদের বাড়ির নারীদের কতটা সম্মান করেন? কতটা সুরক্ষিত রাখেন? এই রাজ্যটিকে কি আপনারা আরেকটি উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট বানাতে চাইছেন? কার ক্ষমতা আছে দেখি! সামনে এসে বলুন না!" মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীকের জৈনের বাড়িতে ইডি হানার ঘটনার পর রূপাঞ্জনা বিজেপিকে নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি দলকে ‘ইংরেজের দালাল’, ‘স্যাডিস্ট’ এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে তোপ দেগেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং বিভাজনের রাজনীতি করাই বিজেপির মূল উদ্দেশ্য।

সেই পুরোনো ক্ষোভ ঝালিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, "গুজরাট গণহত্যার কথা কেউ ভুলে যায়নি। ধর্মের নামে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ ঘটিয়ে দিল্লির মসনদে বসে থাকা আপনাদের রক্তমাখা মুখ আজ সবাই চেনে। আপনাদের মতো দুর্বল চিত্তের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে আমি ভালই করেছি।"

নিজের জীবনযাত্রা নিয়ে ট্রোলের জবাবেও বেশ আত্মবিশ্বাসী রূপাঞ্জনা। নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, "স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ক’জন বিজেপি সমর্থক সেলুলার জেলে অত্যাচারিত হয়েছিলেন? আর শুনুন, আমি রোজ বিকেলে মুড়ি খাই... ঝাড়গ্রামে আমার নিজের বাড়ি আছে। সেখানকার মুড়ির স্বাদও আমার জানা আছে। আর সানগ্লাস পরে ছবি তুলতে দারুণ লাগে- সবই জানা আছে আমার।"

রূপাঞ্জনা মিত্রের এই ঝাঁঝালো অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিক দলবদলের পর তিনি কোনোভাবেই চুপ করে থাকার পাত্রী নন। বিজেপি এবং তাঁর সমর্থকদের কড়া প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে এখন নতুন জল্পনা।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন