© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কুড়িগ্রামে ছাত্রদলের হামলায় মাথা ফাটলো শিবির নেতার

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে ছাত্রদলের হামলায় মাথা ফাটলো শিবির নেতার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৫ পিএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পুলিশের সামনেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় এক শিবির নেতার মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা শহরের রাজারহাট স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।ঘটনার সত্যতা দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ।

হামলায় আহত শিবির নেতাদের নাম সুজন মিয়া ও সামিদ সাকি মাহিন। সুজন রাজারহাট উপজেলা পশ্চিম থানা শিবির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নে বলে জানা গেছে। আর মাহিন ছাত্রশিবির রাজারহাট উপজেলা শাখার সাবেক অফিস সম্পাদক এবং জেলা স্কুল বিভাগের বাইতুল মাল সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নে।

তাদের ওপর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারি, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ, সেক্রেটারি নাছিম এবং ছাত্রদল নেতা আল মিজান মাহিনসহ বেশ কয়েকজন হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলার শিকার শিবির নেতা মাহিন বলেন, ‘শিবিরকে নিয়ে দেওয়াল লিখন, ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যের জেরে রাজারহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক রুবেল মিয়াকে তার কর্মস্থল রাজারহাট স্কুল এন্ড কলেজে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে, এমন খবরে আমরা সেখানে যাই। আমি এবং শিবির সভাপতি সুজন ভাই মোটরসাইকেলে করে কলেজের সামনে পৌঁছাতেই সেখানে আগে থেকে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ওঁত পেতে থাকা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারির নেতৃত্বে তার সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ, সেক্রেটারি নাছিম এবং ছাত্রদল নেতা আল মিজান মাহিন আমাদের গতি রোধ করে। এ সময় তারা শিবির সভাপতি সুজন মিয়াকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেদম পেটাতে থাকে। তাদের হামলায় সুজন ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। আমি মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আমাকেও পেটায়। এতে আমার গায়ের পোশাক ছিঁড়ে যায়। কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে থাকলেও তারা এগিয়ে আসেননি। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারি বলেন, ‘জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা রুবেল মিয়া ফেসবুকে একাধিক পেজ ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত সরকার, আমাদের জাতীয় নেতা এবং ছাত্রদলকে নিয়ে নোংরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা কোনো পোস্ট করলে তারা উস্কানিমূলক মন্তব্য করে। এসব বিষয় নিয়ে আজ আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী রুবেল মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল। এ সময় শিবিরের সুজন ও মাহিনসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে আমাদের নেতাকর্মীকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে আমাদের কয়েকজন ছেলে তাদের পিটিয়েছে। আমি এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। এ সময় আমার গায়েও মাইর লাগছে। তারা আমাদের নিয়ে বাজে অপপ্রচার না করলে এসব কিছুই হতো না।’

তবে ছাত্রদল আহ্বায়কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমি উপজেলা জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নামে দুটি আইডি এবং আমার নিজের নামে একটি আইডি পরিচালনা করি। এর বাইরে আর কোনো আইডি বা পেজ চালাই না। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না উস্কানি বা গালিগালাজ করে কোনো পোস্ট দেই। গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন এবং বর্তমানে তেল-বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে আমাদের নেতা জাতীয় পর্যায়ে যেসব বক্তব্য দেন আমি সেসব নিয়ে পোস্ট করি। এজন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আজ আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা শিবির নেতাদের ওপর হামলা করে।’

ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো পক্ষকে পাইনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন