যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে রফতানি বহুমুখীকরণের তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০২ পিএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে রফতানি বহুমুখীকরণ, বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদার করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার হোটেল শেরাটনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও রফতানি খাতে এখনও একমুখী নির্ভরতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রফতানি পণ্য বৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দিতে হবে।
সরকার এরই মধ্যে ওষুধশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে রফতানি ভিত্তি সম্প্রসারণে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির কারণে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ৩ বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এবং ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে উত্তরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একটি মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দরকার।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ইতিবাচক অবদান রাখলেও সামগ্রিক বিনিয়োগ সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনও কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে ওঠানামার প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আইসিটি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। পাশাপাশি সেবা খাতে-বিশেষ করে আইসিটি, ফিনটেক, ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবায় সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বক্তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এবি/টিএ