© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১৮ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৬ জনের যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন:
১৮ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৬ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০৭ এএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ বছর পর মাগুরার বহুল আলোচিত পবন মোল্লা নামে এক কৃষক হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে মোট আট আসামির সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, একজনকে দুই বছর এবং আরেকজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. নাছির উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার আটজন আসামির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আব্দুল জলিল, লিয়াকত আলী, নওসের মোল্লা, হালিম মোল্লা, সাবু শেখ ও জহুর মোল্লা।

এ ছাড়া, আকবর শেখকে ৩২৪ ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সিদ্দিককে ৩২৩ ধারায় ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি আসামিদের খালাস দেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন কৃষক পবন মোল্লা (৩৫)। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রেজাউল, জাকির হোসেন, এরশাদ ও মুজিবরও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।

হামলাকারীরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পবন মোল্লাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিন নিহতের চাচা আকমল মোল্লা ২৪ জনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৮ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো। এরই মধ্যে মামলা চলমানকালে মামলার বাদী আকমল মোল্লা গত দুই বছর আগে মারা গেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ রশিদ বলেন, পবন মোল্লাকে তার বাড়ির সামনে ঘিরে ধরে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিনই মামলাটি করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও আমরা মনে করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে মামলার বাদী এ রায় দেখে যেতে পারেননি। তবে এ রায়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একটি বার্তা গেছে—অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের স্বজনরা। তবে রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা দাবি করেন, তারা ন্যায়বিচার পাননি এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন