© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

শেয়ার করুন:
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪৭ এএম | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে, উন্নয়নশীল দেশগুলো গুরুতর অর্থনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।

সম্প্রতি আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামের পার্শ্বে এডিএফ টকসে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি বাজারে বর্তমান অস্থিরতা অমীমাংসিত থাকলে, এর পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেলের ধাক্কার চেয়েও বড় ধরনের হতে পারে।

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, আগের তেলের ধাক্কার পর ১৯৮০-এর দশকে নবীন রাষ্ট্র ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তেল, এলপিজি ও সার সরবরাহের ওঠানামার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে, যেহেতু দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে পরিচালিত আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

নৌপরিবহণ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত সমুদ্রপথ খোলা রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সামুদ্রিক রুট দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে, তা বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে বর্তমান রোপণ মৌসুমে, যখন ডিজেল ও সারের চাহিদা বেশি, তখন এই প্রভাব পড়তে পারে।

বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়, জ্বালানি রেশনিং এবং অফিস ও প্রাতিষ্ঠানিক সময়সূচিতে সমন্বয়সহ বিচক্ষণ পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

দেশীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ছিল এবং জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা উদযাপন করেছে।

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী কর্মসূচি চালু করেছে।

ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট মানে, বাংলাদেশ একা নয়’ জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই নীতির ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পারস্পরিক সম্মান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত হলে, জাতিসংঘে তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, তাকে প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম করবে।

ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবেন এবং তার কর্মসূচির কেন্দ্রে বৈশ্বিক দক্ষিণ, ছোট রাষ্ট্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উদ্বেগকে রাখবেন।

ড. খলিলুর রহমান আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামকে সংলাপের একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রশংসা করে বলেন, সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন