ভোট শেষে গণতন্ত্র নিয়ে কী বার্তা দিলেন পরমব্রত?
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫৪ পিএম | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকারাও তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে কেউ কেউ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন, কেউ আবার নিজস্বী পোস্ট করলেন সমাজমাধ্যমে। এদিন ভোট শেষে গণতন্ত্র নিয়ে কী বার্তা দিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়?
ভোট দিয়ে কালি লাগানো আঙুল দেখিয়ে একাধিক ছবি তোলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেই ছবি সহ সহনাগরিকদের সঙ্গে তোলা সেলফি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন অভিনেতা। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখেন, 'বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান, ক্ষিপ্ত তীরধনুক, আমি একবার দেখি বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ। বাংলা মানে সমালোচনা করার অধিকার, একই সঙ্গে , জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালি হিসেবে নিজের মৌলিক পরিচয়র সঙ্গে আপস না করা। আমি বেছে নিয়েছি, আমি আমার ভোট দিয়েছি। আমি নিশ্চিত আপনিও আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আমরা সবাই আমাদের পছন্দকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাই। আমাদের পছন্দগুলো আলাদা হতে পারে, কিন্তু যোগ দেওয়ার পদ্ধতি নয়। অবশেষে এটাই তো সৌন্দর্য গণতন্ত্রের।'

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এই বছর নির্বাচনের আগে প্রথমবার কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে সরাসরি প্রচার করলেন। আগেই খবর রটেছিল যে, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন অভিনেতা, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেই গুঞ্জনে জল ঢেলে আজকাল ডট ইন-কে পরমব্রত জানিয়েছিলেন, এই বিষয়ে তিনি অবগত নন। প্রার্থী না হলেও এবার তৃণমূলের সমর্থনে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছেন পরমব্রত।
নদীয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় শনিবার দেখা গিয়েছিল এক ঝাঁক তারকাদের। চক দিগনগর হাইস্কুলের মাঠ এদিন যেন কার্যত 'চাঁদের হাটে' পরিণত হয়েছিল। প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে সেখানে হাজির ছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী জুন মালিয়া এবং অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এর আগে তাঁকে কখনও কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে ভাষণ দিতে দেখা যায়নি। নিজের রাজনৈতিক সফরের শুরুতেই পরমব্রত বেশ ঝাঁঝালো মেজাজে ধরা দেন। পরমব্রত জানান, কৃষ্ণনগর দক্ষিণের এই পুণ্যভূমি থেকেই তাঁর রাজনৈতিক মঞ্চে পদার্পণ হল। তাঁর মতে, ২০২৬ -এর নির্বাচন কেবল সাধারণ কোনও ভোট নয়, বরং এটি বাঙালির আত্মসম্মান ও মর্যাদা বাঁচানোর এক বড় লড়াই। নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে সব রাজ্যে নারীদের ওপর অপরাধের হার সবথেকে বেশি, সেখান থেকে এসে কেউ বাংলার সুরক্ষা নিয়ে জ্ঞান দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরমব্রত বলেন, "কৃষ্ণনগর দক্ষিণের এই পূণ্যভূমি থেকে আজ ব্যক্তিগতভাবে আমার রাজনৈতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হচ্ছে। এই ভরদুপুরে ধুলো আর রোদ উপেক্ষা করে আসার একটাই কারণ— ২০২৬-এর নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট নয়, এটি বাঙালির আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।" তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ আজও মহিলাদের জন্য দেশের মধ্যে সবথেকে নিরাপদ জায়গা। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়া বা এসআইআর -এর নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হেনস্থা করার বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।
এসএ/এসএন