ফিফার কংগ্রেসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রধানের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২২ এএম | ০১ মে, ২০২৬
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফিফার ৭৬তম কংগ্রেস। যেখানে মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজুব এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমানের। তবে এ সময় সুলিমানের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান জিবরিল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ডাকে সাড়া দিয়ে মঞ্চে উঠলেও তাদের মাঝে স্পষ্ট ব্যবধান ছিল।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফিফার সম্মেলন মঞ্চে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মাইক্রোফোনে প্রতিবাদ জানান ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রধান জিবরিল রাজুব। এর আগে তিনি দখলকৃত নগর পশ্চিম তীরে ক্লাব পরিচালনার মাধ্যমে ফিফার বৈষম্য-বিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ফিফা ইসরায়েলের ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ায় তারা বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট-এ (সিএএস) তুলছে। পিএফএ’র বরাতে রয়টার্স বলছে, গত ২০ এপ্রিল তারা আপিলটি দায়ের করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত আপিলের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি সিএএস।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝিতে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দুটি পৃথক আবেদন নিয়ে ফিফা নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি আবেদন ছিল– পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোকে জাতীয় লিগে খেলতে দেওয়ার কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। যা নিয়ে গভর্ন্যান্স প্যানেলের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনও আন্তর্জাতিক আইনে জটিল ও অনির্ধারিত। ফলে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় আড়াই কোটি টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে– বৈষম্য ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড, আক্রমণাত্মক আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন। এসব অভিযোগ নিয়ে ফিফার তিন বিচারক মনে করেন, ইসরায়েলি ফুটবলে রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা প্রচার হতে দেখেও মেনে নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বেইতার জেরুজালেম ক্লাবের সমর্থকদের ক্ষেত্রে। এর পাশাপাশি বসতি এলাকাগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ফুটবল অবকাঠামো থেকে কৌশলগতভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তারা।
এদিকে, ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো দুই দেশের ফুটবল কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রাজুব, ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলাইমান, আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। শিশুদের আশা জোগাতে আসুন আমরা একত্রে কাজ করি।’ পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি ফুটবলপ্রধান রাজুব আবেগঘন আবেদন জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘ইসরায়েলের কি ফিফার অংশ হওয়ার আদৌ কোনো অধিকার আছে? আমি এখনও ফিফা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করি এবং অনুসরণ করি। কিন্তু আমি মনে করি এটা বোঝার সময় এসেছে যে ফিফার বিধি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়া উচিত।’
ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়ারিভ টেপার রাজুবের মন্তব্যের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে তিনি বলেছেন যে আইএফএ প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিনের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। টেপার বলেন, ‘আমরা ফিফা কংগ্রেসে আছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ফুটবলের প্রসার ঘটানো এবং সব অঞ্চলের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
আরআই/এসএন