‘কেসারি’র শুটিংয়ে নিরাপত্তার অভাবে কোন ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটেছিল?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৮ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবি ‘কেসারি’ একসময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল যুদ্ধের বিস্তৃত দৃশ্য আর আবেগঘন কাহিনিতে। তবে পর্দার আড়ালে এই ছবির শুটিং ঘিরে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, যা দীর্ঘদিন পর আবারও সামনে এল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিশেষ প্রভাব তত্ত্বাবধায়ক বিশাল ত্যাগী।
২০১৮ সালের এপ্রিল মাস। ‘কেসারি’র ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের শুটিং চলছে পুরোদমে। পরিকল্পনা ছিল একটি বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য ধারণ করা। প্রথমে আলাদা একটি দেয়াল তৈরি করে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটানোর কথা থাকলেও বাজেটের সীমাবদ্ধতায় সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়। পরিবর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেটের আসল দেয়ালেই বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। আর সেই সিদ্ধান্তই পরে ডেকে আনে বিপর্যয়।
বিশাল ত্যাগীর কথায়, শুটিংয়ের প্রস্তুতির সময়ই তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। মুম্বই থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনার প্রস্তাবও দেন, কিন্তু বাজেটের অজুহাতে তা মানা হয়নি। এরই মধ্যে এক বিদেশি অ্যাকশন পরিচালক এসে বিস্ফোরণের সঙ্গে আগুনের প্রভাব যোগ করার পরামর্শ দেন। পরিস্থিতি তখন আরও জটিল হয়ে ওঠে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যে দেয়ালটিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছিল সেটি তৈরি ছিল অত্যন্ত দাহ্য উপাদান দিয়ে। গ্যাস পপার ব্যবহার করে কাজ করার সময় হঠাৎই একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং গোটা সেট গ্রাস করে ফেলে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, সেটে তখন কোনও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিংবা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি কিছুই ছিল না। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে পুরো ইউনিটকে চোখের সামনে সেটটি পুড়ে ছাই হতে দেখতেই হয়েছে। খোলা জায়গায় শুটিং চলছিল বলে এবং আগুন ধীরে ছড়ানোর কারণে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বিপুল—প্রায় আট কোটি টাকা।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। প্রযোজনা সংস্থা প্রথমে দায় চাপায় বিশাল ত্যাগীর ওপর। তবে পরিচালক অনুরাগ সিং তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে জানান, এটি কোনও একক ব্যক্তির ভুল নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশাল জানান, এরপর থেকে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করেন না এবং প্রয়োজনে কাজ করতে অস্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকেন।
পর্দার ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে যে কতটা ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা লুকিয়ে থাকে, ‘কেসারি’র এই ঘটনা যেন তারই এক তীব্র উদাহরণ হয়ে রইল।
পিআর/টিকে