© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৩ সিনেমায় ১ হাজার ৫০০ কোটির বাজি, সেই সঙ্গে বিতর্ক

শেয়ার করুন:
৩ সিনেমায় ১ হাজার ৫০০ কোটির বাজি, সেই সঙ্গে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২২ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে বড় বাজেটের গল্প নতুন নয়। কিন্তু একসঙ্গে তিনটি ছবিতে প্রায় দেড় হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ এ যেন শুধু ব্যবসা নয়, এক ধরনের দুঃসাহসিক স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের নাম কেভিএন প্রোডাকশনস। আর সেই স্বপ্ন এখন দাঁড়িয়ে আছে অনিশ্চয়তা, বিতর্ক আর সম্ভাবনার এক অদ্ভুত সংযোগস্থলে।

মাত্র কয়েক বছর আগে, ২০২০ সালে, প্রযোজক ভেঙ্কট কে নারায়ান যখন এই প্রযোজনা সংস্থাটি গড়ে তোলেন, তখন তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট দক্ষিণ ভারতের গল্পকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা। মাত্র ছয় বছরে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগোতে গিয়ে সংস্থাটি এখন এমন এক অবস্থানে, যেখানে সাফল্য যেমন ইতিহাস গড়তে পারে, তেমনি ব্যর্থতা বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২০২৬ সালে এই সংস্থার তিনটি বড় সিনেমা ‘টক্সিক’, ‘জন নায়গন’ ও ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ একসঙ্গে বাজারে আসার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিনেমার জগৎ কখনো সরল পথে হাঁটে না। প্রতিটি গল্পের মতো এখানেও এসেছে মোড়, জটিলতা আর অপ্রত্যাশিত বাধা।



তামিল সুপারস্টার বিজয় অভিনীত সিনেমা জন নায়গন ছিল এই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত। এটিকে তার ক্যারিয়ারের শেষ ছবি হিসেবে ধরা হচ্ছিল, তাই প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু মুক্তির আগেই ছবিটি আটকে যায় সেন্সর জটিলতায়। 

এর পাশাপাশি মাদুরাইয়ের কিছু গ্রামবাসী অভিযোগ তোলেন, ছবিতে তাদের সম্প্রদায়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্রতিবাদও শুরু হয়। সব মিলিয়ে ছবির মুক্তির তারিখ এখনো অনিশ্চিত।



অথচ শুরুতে এই ছবির ব্যবসা ছিল নজিরবিহীন। তামিলনাড়ুর প্রেক্ষাগৃহের স্বত্ব ১০৫–১০৬ দশমিক ৫ কোটি রুপি বিক্রি হয়, বিদেশের স্বত্ব প্রায় ৮০ কোটি টাকায়। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও ডিজিটাল স্বত্ব কিনেছিল প্রায় ২০০ কোটি রুপিতে, আর জি তামিল স্যাটেলাইট স্বত্ব ৬৪ কোটি রুপিতে কিনে নেয়।

কিন্তু দীর্ঘ বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার কারণে এই চুক্তিগুলোর কিছু বাতিল হয়ে যায় বা ঝুলে থাকে। ট্রেড বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবির সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৩০০ কোটি রুপির কাছাকাছি হতে পারে। 

আইনি লড়াই, পাইরেসির ধাক্কা, এমনকি স্থানীয় মানুষের আপত্তি সব মিলিয়ে ছবিটি যেন সম্ভাবনার চূড়া থেকে হঠাৎই নেমে পড়ে অনিশ্চয়তার খাদে। যে সিনেমা একসময় রেকর্ড ব্যবসার আশা দেখাচ্ছিল, সেটিই এখন ক্ষতির আশঙ্কায় ঘেরা।

অন্যদিকে ‘টক্সিক’ যেখানে রয়েছেন যশ এবং পরিচালক  গীতু মোহনদাস এটি যেন এক বিশাল ক্যানভাসের গল্প। কয়েকশ কোটি রুপির এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু ভারত নয়, বিশ্ববাজার। কিন্তু বারবার মুক্তির তারিখ বদল হওয়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবুও নির্মাতারা এখনো আশাবাদী, কারণ এই ছবির হিসাব এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং আন্তর্জাতিক দর্শকের দিকে তাকিয়েই নতুন করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।



তবে ‘জন নায়গন’–এর তুলনায় এই ছবির পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। এখনো স্যাটেলাইট বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ফলে আর্থিক ক্ষতি আপাতত সীমিত।

অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বিতরণ অধিকার ১২০ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছে, যা কোনো অ–তেলেগু ছবির ক্ষেত্রে বিরল। আন্তর্জাতিক বাজারেও আগ্রহ রয়েছে। নির্মাতারা এখন বিশ্বব্যাপী মুক্তির পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।

আর ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ এই ছবির গল্পটা একটু ভিন্ন। এটি মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু তার আগেই বিতর্কের আগুনে পুড়েছে। একটি গান নিয়ে সমালোচনা, ট্রেলার সরিয়ে নেওয়া সব মিলিয়ে ছবিটি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল শুরু থেকেই। কেউ বলছেন, এই বিতর্কই ছবির প্রচারণা বাড়িয়েছে; আবার কেউ মনে করছেন, এটি বক্স অফিসে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনটি সিনেমা, তিনটি ভিন্ন বাস্তবতা কিন্তু একটাই প্রযোজনা সংস্থা। এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় চাপ। একদিকে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে বিলম্ব, আরেকদিকে জনমতের বিতর্ক সব মিলিয়ে কেভিএন প্রোডাকশনস এখন যেন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

এই গল্পটা শুধু সিনেমার নয়, বরং ঝুঁকি নেওয়ার গল্প। বড় স্বপ্ন দেখার গল্প। যেখানে সাফল্য এলে ইতিহাস তৈরি হবে, আর ব্যর্থতা এলে তা হবে বড় শিক্ষা।

কেভিএন প্রোডাকশনসের এই তিন ছবিতে মোট বিনিয়োগ ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপির বেশি। এখন সব প্রশ্ন গিয়ে ঠেকেছে সময়ের কাছে।

‘জন নায়গন’ কি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়ে হারানো সম্ভাবনা ফিরে পাবে? ‘টক্সিক’ কি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা করে নেবে? নাকি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ হয়ে উঠবে এই বাজির একমাত্র ভরসা?

উত্তর এখনো অজানা। তবে এটুকু নিশ্চিত দেড় হাজার কোটির এই বাজি শুধু অর্থের নয়, এটি স্বপ্ন, সাহস আর অনিশ্চয়তার এক সিনেমাটিক কাহিনি, যার শেষ দৃশ্য এখনো লেখা হয়নি।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন