ময়মনসিংহ মহিলা কলেজে নিয়ম অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৭ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
ময়মনসিংহ মহিলা (ডিগ্রি) কলেজে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষক ফারহানা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মহানগর বিএনপি'র আহ্বায়ক একেএম শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে দায়িত্ব না দিয়ে তুলনামূলক কনিষ্ঠ শিক্ষক ফারহানা পারভীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কলেজে অনার্স বিভাগ না থাকলেও অনার্সের নিয়োগপত্র দেখিয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন উত্তোলন করছেন। এ নিয়ে অডিট এড়াতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষক মাসুমা আক্তার ও জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহ আজিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে কলেজে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক শিক্ষক জানান, ফারহানা পারভীন দায়িত্ব নেওয়ার পর খণ্ডকালীন শিক্ষকদের চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে দ্রুত এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বিধি মোতাবেক যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করবেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব অভিযোগ আমার কাছে হাস্যকর। বিষয়টি নিয়ে ডিডি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজের কর্মচারীদের সাথে কথা বললেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।”
কলেজের দাতা সদস্য মির্জা ফারজানা রহমান হোসনা জানান, তিনি সভায় আইনবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বয়কট করেছেন এবং সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট মহলকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।
মহানগর বিএনপি'র আহ্বায়ক একেএম শফিকুল ইসলাম বলেন, “অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বে একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল। বর্তমানে একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে গভর্নিং বডির সভাপতি একেএম আজহারুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
টিএ/