© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরান না যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালির আসল কার্ড কার হাতে?

শেয়ার করুন:
ইরান না যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালির আসল কার্ড কার হাতে?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:১৮ এএম | ০৫ মে, ২০২৬

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এক নতুন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই দ্বন্দ্বে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বা ‘কার্ড’ তার হাতে রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই দাবিকে উপহাস করে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে এই জলপথের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) উনো কার্ড খেলার একটি ছবি পোস্ট করে মার্কিন আত্মবিশ্বাসের জানান দেন। এর পরপরই তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযানের ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন সামরিক পাহারায় নিরাপদ পথ করে দেওয়া। 

উল্লেখ্য, গত দুই মাস ধরে ইরান এই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩০ ডলারে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের এই ‘কার্ড’ বিষয়ক বার্তার জবাবে তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট উনো খেলার নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেছে, যার হাতে সব কার্ড থাকে সে আসলে হারছে। পাশাপাশি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের অনুমতি বা সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে শক্তি প্রয়োগ করে থামিয়ে দেওয়া হবে। 

সোমবার (৪ মে) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তা অস্বীকার করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল সামরিক শক্তি এবং বিধ্বংসী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইরান ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ মাধ্যমে সেই শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। 

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্কের মতে, ট্রাম্প নিজেকে দক্ষ খেলোয়াড় মনে করলেও ইরানের সস্তা ড্রোন এবং ক্লাস্টার বোমা মার্কিন ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর দিয়ে ২০-৫০ হাজার ডলারের ইরানি ড্রোন ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এক অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে, অন্যদিকে আইআরজিসি যেকোনো মূল্যে তাদের জলসীমা রক্ষার ঘোষণা দিয়ে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বড় কোনো সশস্ত্র যুদ্ধের রূপ নেয় কি না, সেদিকে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন