কোন পাঁচটি কারণে পশ্চিমবঙ্গে হারল তৃণমূল কংগ্রেস?
ছবি: সংগৃহীত
১২:২০ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার না করলেও দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির ক্ষমতায় আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তৃণমূলের এই পরাজয়ের পেছনে পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
নারী ভোটব্যাংকে ফাটল
লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রীসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় ছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার সেই ভোটব্যাংকে বড় ফাটল ধরেছে। দুই বছর আগের আরজিকর আন্দোলন এবং নারী সুরক্ষায় তৃণমূলের ব্যর্থতা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি পানিহাটিতেও আরজিকর নির্যাতিতার মা বিজেপি প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে থাকাটা এই পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) ৯০ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। এতে তৃণমূল সমর্থক বহু বৈধ ভোটার ভোট দিতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসই।
দেড় দশকের দুর্নীতি ও অপশাসন
দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে দুর্নীতি, কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজের বিস্তার তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসআইআরকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে এই দুর্নীতির দায় ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন মমতা, কিন্তু তা যথেষ্ট হয়নি।
হিন্দু ভোটের কনসলিডেশন
রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম, যাদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পেয়ে আসছিল। কিন্তু এবার এর পাল্টা হিন্দু ভোটের শক্তিশালী কনসলিডেশন হয়েছে। এর ফলে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম-গরিষ্ঠ জেলাতেও বেশ কিছু আসন পেয়েছে বিজেপি।
শাসক দলের ‘বাড়তি সুবিধা’ না পাওয়া
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় শাসক দল ভোটের সময় প্রশাসনিক কিছু বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরপরই রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এবং ব্যাপকভাবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি করে। পাশাপাশি রাজ্যে মোতায়েন করা হয় ২ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, যা ছিল একেবারে অভূতপূর্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ায় মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন, যা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের বিপক্ষেই গেছে।
এসকে/এসএন