তৃণমূল হারার পর কেন আলোচনায় মেসির স্মৃতি?
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৭ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস হারার পর পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের স্মৃতি নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। তারা লিখছেন, ক্রীড়াপ্রেমী পশ্চিমবঙ্গবাসী এবার ব্যালটে তাদের ক্ষোভ মিটিয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে চরম অব্যবস্থাপনা এবং দর্শকদের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। যুব ভারতী স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি আনন্দ-উৎসবের বদলে বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। আয়োজককে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করা হয়।
তৃণমূলের ভিআইপিদের আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা রাজ্য। তাদের কারণেই সাধারণ মানুষ মেসিকে দেখতে পারেনি বলে অভিযোগ ওঠে।
সোমবার (৪ মে) মমতার দল হারার পর ভারতের ধারাভাষ্যকার সুবব্রত মুখার্জি নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাঙালি ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে এই দিনটা শুধু লজ্জার ছিল না, ছিল অনেক কষ্টের… কষ্টের টাকা খরচ করে সেদিন একমাত্র এই লোকটা (তৃণমূল নেতা) লিওনেল মেসির কোমর জড়িয়ে যে নোংরামি করেছিল… তা আজ ইতিহাস…’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘সেই লোকগুলো আজ কিছুটা হলেও নিশ্চয়ই শান্তি পেয়েছে… হয়তো সেই মানুষটিও আজ শান্তি পেয়েছে, যাকে ‘বলির পাঁঠা’ করার প্ল্যান হয়ে গিয়েছিল… সব আক্রোশ তার দিকে ঘুরিয়ে তাকে আরেকটা ‘সুদীপ্ত সেন’ বানানোর চেষ্টা হয়েছিল… সেই মানুষটি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকলেও তাকে ট্যাগ করলাম না স্বাভাবিক কারণে… আশা রাখি এই পোস্ট তার কাছেও পৌঁছাবে। আপনারা কেউ সেদিন কি সল্টলেকে উপস্থিত ছিলেন? জানাবেন সেদিনের অভিজ্ঞতা।’
এই ঘটনাটি তখন কেবল একটি ব্যর্থ ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। তৃণমূল সরকারের অধীনে আয়োজিত এই ইভেন্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে পরিকল্পনা, নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে। টিকিট কেটে আসা হাজারো দর্শক অভিযোগ করেন, তারা স্টেডিয়ামে ঢুকতেই পারেননি বা ঢুকেও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছেন।
অন্যদিকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবিতে সেই বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতির কথা উঠে আসে। কোটি টাকার টিকিট বিক্রি, স্পন্সরশিপ ও আয়োজন ব্যয়ের বিপরীতে দর্শকদের অসন্তোষ পুরো ইভেন্টটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। অনেকেই টাকার বিনিময়ে প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সরাসরি নির্বাচনের ফল নির্ধারণ না করলেও শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের একাংশের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি হতাশা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ‘আমাদের মানুষ’ ইমেজে পরিচিত দলের সঙ্গে এই ধরনের এলিট আচরণের অভিযোগ সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। ফলে মেসির সেই সফর অনেকের কাছে হয়ে ওঠে ক্ষমতার ব্যবহার, ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা এবং জনবিচ্ছিন্নতার প্রতীক। আর তৃণমূলের পরাজয়ের পর সেই প্রতীকই নতুন করে ফিরে এসেছে আলোচনায়।
আরআই/টিএ