© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হয়তো একদিন মমতার নামে একটা মন্দির হবে: কবীর সুমন

শেয়ার করুন:
হয়তো একদিন মমতার নামে একটা মন্দির হবে: কবীর সুমন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৪ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি দেখলো পশ্চিমবঙ্গবাসী। ভারতের এই রাজ্যে বিজেপির উত্থানে পাল্টে গেছে সব সমীকরণ। মমতার পরাজয়ের পর চলছে তার কৃতকর্ম নিয়ে নানা চর্চা। এবার এ নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সমর্থক হিসেবে পরিচিত কলকাতার কিংবদন্তী শিল্পী কবীর সুমন।

তৃণমূলের পরাজয়ের পর এই শিল্পী যেমন মমতার দলের মন্দ দিকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন, তেমনি মমতার ভালো কাজগুলো নিয়েও বলেছেন ইতিবাচক কথা।



সম্প্রতি কলকাতার আজতক বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিধ্বংসী ফলাফল নিয়ে কবীর সুমন বলেন,“যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে, ট্যাঙ্ক ঢুকবে। তবে জনতার সমর্থন কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।”

মমতার সমালোচনা করে এই গুণী শিল্পী বলেন,“আমি মনে করি, একাধিক (মমতার) ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি।”

মমতার ভালো কাজের কথা উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন বলেন,“দলের (তৃণমূল) বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন সবুজসাথী। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কতবড়, কতো বিশাল কাজ। এই ধরনের কিছু কাজের জন্য হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে। তিনশো চারশো বছর পরেও হতে পারে, এটা আমি আগেও বলেছি।”

‘তৃণমূল সমর্থক’ কথাটি নিয়ে এসময় আপত্তি করেন কবীর সুমন। বলেন,“আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।”

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে কবীর সুমন বলেন,, “সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল। আমি আশা করব, নতুন সরকার যেন সেই ধারা বজায় রাখেন।”

শেষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে গানওয়ালা বলেন,“এখনও ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব, কোনো অবস্থাতেই বিজেপিতে গিয়ে নাম লেখাবো না। তবে সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাঁদের জন্য গান বাঁধব। তাঁদের পাশে থাকব।”

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন