বরিশালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য ১৮ বছর পর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৭ এএম | ০৭ মে, ২০২৬
নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘ ১৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক মাদক কারবারি। শুধু আত্মগোপনই নয়, ছদ্মনামে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে টানা দুবার তিনি ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে র্যাব-৮ ও র্যাব-৩-এর যৌথ অভিযানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম আবুল কালাম আজাদ। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার আমবাগান এলাকার আফেজ উদ্দীন আকনের ছেলে। তবে আত্মগোপনে থাকা এলাকায় তিনি ‘কালাম আকন’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৮-এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান। তিনি জানান, ২০০৮ সালে ঢাকার সবুজবাগ থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন এবং এরপর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকেন। পরে নিজ এলাকা ছেড়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি।
সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘মো. কালাম আকন’ নামে পরিচয় গোপন রেখে বসবাস শুরু করেন। এভাবে প্রায় ১৮ বছর তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে চলছিলেন। ছদ্মনাম ব্যবহার করেই তিনি নলুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা দুবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ছদ্মনামে থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা চলছে।
ইউটি/টিএ