রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৭ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর ও অম্লান স্মৃতির প্রতি জাতির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাও করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন, তিনি বাঙালির হৃদয়ের ভাষা। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন প্রেম আছে, তেমনি আছে মানুষের প্রতি অগাধ মমতা, প্রকৃতির প্রতি গভীর টান এবং শান্তির এক অনবরত আহ্বান। কাব্য থেকে সংগীত, গল্প থেকে নাটক—সবখানেই যেন মানুষ ও মানবতার এক অবিচ্ছেদ্য গল্প বলে গেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের চিন্তার ভেতরে ছিল এক বিস্তৃত বিশ্বদৃষ্টি। তিনি কেবল নিজের দেশের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকেননি, বরং মানুষের কল্যাণ ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন সারাজীবন। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে আজও বিশ্বজুড়ে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে বার্তায়। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে তাঁর গান মানুষকে সাহস জুগিয়েছে, শক্তি দিয়েছে—এমন স্মৃতি এখনো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান। একই সঙ্গে বাংলার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা এই ভূখণ্ডেরই জীবন্ত প্রতিফলন।
জাতীয় সংগীতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ শুধু একটি গান নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীরতম অনুভব। এই গানেই যেন দেশের প্রতি ভালোবাসা, মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক একসূত্রে বাঁধা পড়ে।
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বজয়ের কথাও স্মরণ করেন তিনি। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। প্রথম এশীয় হিসেবে এই স্বীকৃতি অর্জন ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা আজও গর্বের উৎস।
বর্তমান বিশ্বের অস্থির সময়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত ও উগ্রতার এই সময়ে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, শান্তি ও সহাবস্থানের যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও পথ দেখাতে পারে।
শিক্ষা নিয়ে তাঁর ভাবনার দিকেও আলোকপাত করা হয়। শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ যে শিক্ষা দর্শনের কথা বলেছিলেন, সেখানে বইয়ের গণ্ডির বাইরে জীবনকে জানার আহ্বান ছিল স্পষ্ট। নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই দৃষ্টিভঙ্গি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আইকে/টিকে