© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু: জানা গেল কারণ

শেয়ার করুন:
তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু: জানা গেল কারণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৬ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু তরমুজ খাওয়ার কারণে সৃষ্ট সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়ায় হয়নি; বরং তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহতদের দেহ এবং তারা যে তরমুজ খেয়েছিলেন, তার নমুনায় ইঁদুর মারার কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।  

ময়নাতদন্তে নিহতদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজ আভা প্রকাশ পাওয়ার কয়েকদিন পর চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা বড় ধরনের মোড় নেয়; যা বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে চিকিৎসকরা পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছেন। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে ৪০ বছর বয়সি আবদুল্লাহ দোকাদিয়া, তার ৩৫ বছর বয়সি স্ত্রী নাসরিন দোকাদিয়া এবং তাদের ১৬ ও ১৩ বছরের দুই শিশু কন্যা আয়েশা ও জয়নাব মারা যায়।

এতে আরও বলা হয়, রাতে পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে মাটন পোলাওয়ের মাধ্যমে নৈশভোজ সম্পন্ন করেন আবদুল্লাহ। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ সবাই বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের সবার মৃত্যু হয়। 

ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসকরা তাদের শরীরে জিঙ্ক ফসফাইটের আলামত পেয়েছেন, যা ইঁদুর মারার জন্য বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকরা মৃতদের শরীরে এই বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

পরিবারটির খাওয়া তরমুজের নমুনায়ও ‘জিঙ্ক ফসফাইট’ পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিক কি দুর্ঘটনাবশত তরমুজে মিশেছে, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢোকানো হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

লাশগুলোর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্মিত হয়েছিলেন। সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় যা দেখা যায় না, এখানে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু ঘটেছে। দেখা গেছে, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে গেছে।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন আবদুল্লাহ দোকাডিয়ার শরীরে মরফিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। অত্যন্ত শক্তিশালী এই ব্যথানাশক ওষুধটি কীভাবে তার শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মরফিন এক ধরনের শক্তিশালী ব্যথানাশক; যা সাধারণত কঠোর চিকিৎসাগত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এই মরফিন তার শরীরে কীভাবে এলো, আগে থেকে কোনো চিকিৎসা চলছিল নাকি কোনো সন্দেহজনক বিষয় রয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখছেন তারা।

এই ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। ওই রাতে নৈশভোজে আসা অতিথিদের জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে অতিথিরা সবাই সুস্থ আছেন। পুলিশ বলছে, দোকাদিয়ার বাসায় আসা অতিথিরা কেবল পোলাও খেয়েছিলেন। তারা তরমুজ খাননি।

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন