© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ধুরন্ধর’-এর ‘প্রোপাগান্ডা’ বিতর্কে স্পষ্ট জবাব বিশ্বদীপের

শেয়ার করুন:
ধুরন্ধর’-এর  ‘প্রোপাগান্ডা’ বিতর্কে স্পষ্ট জবাব বিশ্বদীপের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১২ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
শব্দের জাদুতেই যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত আলোচিত ছবি ‘ধুরন্ধর’। মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে একের পর এক নজির গড়ছে ছবিটি। নির্মাণশৈলী, অভিনয়, আবহ-  সব কিছু নিয়েই প্রশংসার ঝড়। তবে দর্শকের এক বড় অংশের মতে, ছবির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এর শব্দ নির্মাণ। আর সেই শব্দের নেপথ্যের মানুষ বাঙালি সাউন্ড ডিজাইনার বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায়।

‘চোখের বালি’, ‘রেনকোট’, ‘লগে রহো মুন্না ভাই’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘বাজিরাও মস্তানি’, ‘পদ্মাবত’, ‘উরি: দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর মতো বহু আলোচিত ছবিতে কাজ করা বিশ্বদীপ এবার ‘ধুরন্ধর’-এর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন। একই সঙ্গে ছবিকে ঘিরে ওঠা ‘প্রোপাগান্ডা’ বিতর্ক নিয়েও জানালেন নিজের মত।

বিশ্বদীপ জানান, ছবির কাজ শুরুর আগেই পাকিস্তানের লিয়ারি অঞ্চল এবং সেখানে কুখ্যাত রেহমান ডাকাত ও বাবু ডাকাতকে নিয়ে নানা তথ্য জানতেন তিনি। বিভিন্ন দৃশ্যের ভয়াবহতা আগে থেকেই তার মাথায় ছিল। ইউটিউবে দেখা বাস্তব ঘটনার নির্মমতা তাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ভয়াবহ আবহকেই শব্দের মাধ্যমে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি।

পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে তার পরিচয় প্রায় দুই দশকের। তখন আদিত্য সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই আদিত্যর কাজের প্রতি কৌতূহল ও বুদ্ধিমত্তা নজরে পড়েছিল বিশ্বদীপের। তার কথায়, বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত আদিত্য। কাজের চাপের মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করেন তিনি।

‘ধুরন্ধর’-এর প্রতিটি দৃশ্যেই শব্দ নিয়ে আলাদা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে বলে জানান বিশ্বদীপ। বিশেষ করে ছবির প্রথম ভাগের একটি বিয়েবাড়ির দৃশ্য তার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল। একদিকে গান বাজছে, অন্যদিকে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের আবহ- এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, গান যেন শব্দকে ঢেকে না দেয়, আবার শব্দও যেন গানের আবেগ নষ্ট না করে।



বর্তমান দর্শক যে ছবির শব্দ ব্যবহারের প্রতি অনেক বেশি সচেতন, সেটাও মনে করেন বিশ্বদীপ। তার মতে, এখন অনেক দর্শক শুধুমাত্র শব্দের অভিজ্ঞতা অনুভব করতেই প্রেক্ষাগৃহে যান।

ছবির আরেকটি বড় আকর্ষণ রণবীর সিংহের অভিনয়। জসকিরত ও হামজা-  দুই চরিত্রেই দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন অভিনেতা। তবে পর্দার সেই ভারী কণ্ঠ তৈরি করতে হয়েছে বিশেষভাবে। বিশ্বদীপ জানান, হামজা চরিত্রের জন্য রণবীরের কণ্ঠে আলাদা ভার দরকার ছিল। কখনও কখনও তাকে ধূমপান করে এসে সংলাপ বলতে বলা হত, যাতে কণ্ঠে প্রয়োজনীয় গভীরতা আসে।

একটি দৃশ্যে বিরিয়ানি খেতে খেতে সংলাপ বলতে দেখা যায় হামজাকে। সেই দৃশ্যের ডাবিংয়ের সময়ও বাস্তবে বিরিয়ানি খেতে খেতেই সংলাপ বলেছিলেন রণবীর। কারণ, বিশ্বদীপ চেয়েছিলেন সংলাপের মধ্যে বাস্তব অনুভূতি ফুটে উঠুক। অভিনেতাও সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ করেছেন।

শুরুতে ‘ধুরন্ধর’-এর একটিই ছবি হওয়ার কথা ছিল। পরে দ্বিতীয় ভাগের পরিকল্পনা আসে। ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হয়েছে পুরো দলকে। তবে সেই চাপ সত্ত্বেও ছবিটি ঘিরে চারদিকে এখন প্রশংসার ঢেউ।

যদিও ছবিকে ঘিরে ‘প্রোপাগান্ডা’ তকমাও উঠেছে। তবে সেই সমালোচনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন বিশ্বদীপ। তার মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু ছবির নির্মাণ নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেননি। বরং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি তথাকথিত প্রচারধর্মী ছবির সঙ্গে ‘ধুরন্ধর’-এর কোনও মিল নেই বলেই মনে করেন তিনি।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন