ছদ্মবেশে মাঝরাতে রাস্তায় নারী পুলিশ কমিশনার, ৩ ঘণ্টায় ৪০ কুপ্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১১ পিএম | ০৮ মে, ২০২৬
শহরে নারীরা কতটা নিরাপদ? সরেজমিনে তা খতিয়ে দেখতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। ভিন্নরকম পরিস্থিতিরই শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিন ঘণ্টায় তার দিকে এগিয়ে যান প্রায় ৪০ জন পুরুষ। এর মধ্যে অনেকে মদ্যপ অবস্থায় এসে কুপ্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হায়দরাবাদে। মালকাজ গিরির ওই পুলিশ কমিশনারের নাম সুমতি বলে জানা গেছে। শহরের রাস্তায় নারীরা যে নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হন, তা বোঝার জন্যই সাহসী এবং ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যরাতের পরে একাই শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এই আইপিএস অফিসার। তিন ঘণ্টার মধ্যে ৪০ জন পুরুষের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই হইচই পড়ে গেছে ভারতে। দেশটিতে নারীর নিরাপত্তা ঘিরে থাকা বিভিন্ন বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে এ ঘটনা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন সাধারণ নারীর বেশে এবং পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মালকাজ গিরি থানার কাছের একটি বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন সুমতি। জানা গেছে, তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুরুষ সুমতির কাছে আসেন, তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং কুপ্রস্তাবও দেন এর মধ্যে অনেকে। এই পুরুষদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রও ছিল।
কিন্তু তাদের কেউই জানতেন না যে তারা একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন। ওই পুরুষদের মধ্যে অনেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও সুমতির কাছে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ মিলেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, শুধুমাত্র অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্যই এই অনুশীলনটি করা হয়েছিল। অভিযানের পর ওই পুরুষদের মধ্যে একাংশকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা দায়ের না করে তাদের কাউন্সেলিং করার জন্য ডেকে পাঠায় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি তাদের আচরণের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করে।
পুলিশের এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তবে সুমতির এমন পদক্ষেপ এই প্রথম নয়। ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে নিজের কর্মজীবনের শুরুতে একটি রেলস্টেশনের কাছে নারীদের নিরাপত্তা স্বচক্ষে দেখার জন্য একই ধরনের একটি অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি।
তেলেঙ্গানা ক্যাডারের সিনিয়র আইপিএস অফিসার সুমতি ‘স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি)’-র প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেএন/এসএন