© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নাটকীয়তার পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

শেয়ার করুন:
নাটকীয়তার পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫৭ এএম | ১০ মে, ২০২৬
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়ের পর অবশেষে সরকার গঠনের পথে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়। পাঁচ দিনের টানটান উত্তেজনা, গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ১০টায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

দুই বছর আগে গঠিত তার দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই বড় ধরনের সাফল্য পায়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় দলটি ১০৮টি আসন জিতে তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয়।

প্রায় ছয় দশক ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রাখা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বিদলীয় প্রভাব ভেঙে দেয় বিজয়ের দল।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠন সহজ হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বুধবার গভর্নর রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। কিন্তু গভর্নর তাকে আরও সমর্থন জোগাড় করার পরামর্শ দেন।

এরপর শুরু হয় জোর আলোচনা।

ডিএমকে জোটের শরিক সিপিআই ও সিপিআই বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দিলে জোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৬-তে। কারণ বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় টিভিকের কার্যকর সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭।

এদিকে একই সময়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে অপ্রত্যাশিতভাবে একসঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে—এমন খবরও রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে টিভিকে ডিএমকের আরেক শরিক থোল থিরুমাভালাভানের ভিসিকে পাশে টানার চেষ্টা চালিয়ে যায়।

অবশেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ভিসিকে তাদের দুই বিধায়কের নিঃশর্ত সমর্থন ঘোষণা করে। এতে বিজয়ের জোটের সংখ্যা পৌঁছে যায় ১১৮-তে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় টিভিকে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগও সমর্থনের ঘোষণা দিলে জোটের শক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ জন বিধায়ক।

পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় আবারও গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন থালাপতি বিজয়। প্রয়োজনীয় সমর্থনের প্রমাণ দেখানোর পর গভর্নর তাকে সরকার গঠনের অনুমতি দেন। পরে দ্রুত শপথ আয়োজনের অনুরোধ জানালে গভর্নর রবিবার সকাল ১০টায় সময় নির্ধারণ করেন।

রাজভবনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আগামী বুধবারের মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে বিজয় সরকারকে।

শপথ অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

টিজে/টিকে 


মন্তব্য করুন