© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে ব্যারাজভারত বাংলাদেশকে থামাতে পারে না, উদ্বেগ জানাতে পারে : পঙ্কজ শরণ

শেয়ার করুন:
ভারত বাংলাদেশকে থামাতে পারে না, উদ্বেগ জানাতে পারে : পঙ্কজ শরণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৭ পিএম | ১১ মে, ২০২৬
‘বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে একটি ব্যারাজ নির্মাণ করতে চায়। এটি বাংলাদেশের পছন্দের বিষয়। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশকে থামাতে পারে না। ভারত শুধু বলতে পারে, এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদী।’

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির জয়ে দেশটির কেন্দ্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও একই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকছে। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নয়াদিল্লিতে নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাটস্ট্র্যাটে’র কনভেনর ও বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ।

সম্প্রতি নয়াদিল্লির সুষমা স্বরাজ ভবনে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন সাবেক এই হাইকমিশনার।

পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘অনেক বছর পর এবার এমন পরিস্থিতি আসছে, যখন ভারতের কেন্দ্রে ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একই দলের সরকার থাকবে। বিজেপি সরকার নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।

কেননা, বাংলাদেশের সঙ্গে এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে রাজ্যে ও কেন্দ্রের মধ্যে দ্বিমত ছিল। আমি মনে করি, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির জয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’

‘সীমান্তে যা ঘটছে তা দুর্ভাগ্যজনক। এমনটা মোটেও হওয়া উচিত নয়। এই সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষের কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধভাবে মানুষ ও পণ্য চলাচল নিশ্চিত করতে একটি অত্যন্ত উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তির জন্য যে আলোচনা সেখানে পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠতে পারে জানিয়ে ন্যাটস্ট্র্যাটের কনভেনর বলেন, ‘গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য আমি শুনিনি। ৪০ বছরের পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ওই চুক্তিতে পানিবণ্টনের ফর্মুলা ঠিক করা হয়েছিল। এবার নতুন চুক্তির জন্য আলোচনায় পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠতে পারে।’

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে একটি ব্যারাজ নির্মাণ করতে চায়। এটি বাংলাদেশের পছন্দের বিষয়। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশকে থামাতে পারে না। ভারত শুধু বলতে পারে, এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদী।’

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যা ঘটছে তা দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে যা ঘটছে তা দুর্ভাগ্যজনক। এমনটা মোটেও হওয়া উচিত নয়। এই সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষের কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধভাবে মানুষ ও পণ্য চলাচল নিশ্চিত করতে একটি অত্যন্ত উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।’

‘বাস্তব সত্য হলো সীমান্তের অর্থনীতির একটি বড় অংশই অবৈধ, যা দুর্ভাগ্যজনক। এটি চোরাচালান, অস্ত্র ও অপরাধের একটি বিপজ্জনক সংমিশ্রণ তৈরি করে, যেখানে সাধারণ মানুষও জড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সমাধানের প্রথম ধাপ’- যোগ করেন পঙ্কজ শরণ।

‘নির্বাচনে জয়ের পরপরই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেরি করেননি। তিনি ফোন করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন। বিএনপিও বার্তা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার করেছে।’

সাবেক এই হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের সেই পুরোনো অতীতে ফিরে যাওয়া চলবে না যেখানে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে সন্দেহের সম্পর্ক ছিল। সেটি কোনো সমাধান আনবে না।

বর্তমানে তাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা রয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।’

উগ্রবাদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘উগ্রবাদী আদর্শ বা সন্ত্রাসী সংগঠন যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সে জন্য দুই দেশকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য হুমকি।

গোয়েন্দা তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা থাকে যাদের কাজ রাষ্ট্রকে রক্ষা করা। এমনকি যুদ্ধাবস্থা না থাকলে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান ও সহযোগিতার একটি সংস্কৃতি থাকে। বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচারটি ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর; এমনকি সেটা পাকিস্তান, চীন বা যুক্তরাষ্ট্রেরও হতে পারে।’

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ের পরপরই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেরি করেননি। তিনি ফোন করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন। বিএনপিও বার্তা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার করেছে।’

‘বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৭ বছর ধরে লন্ডনে আশ্রয়ে ছিলেন। তাই কেউ ভারত বা অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেওয়া, এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা, একেবারেই ব্যতিক্রমী কিছু নয়। এখানে কিছুটা রাজনীতি আছে, কিছুটা আইনি বিষয়ও আছে। বর্তমানে বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং আমাদের দেখতে হবে দুই সরকার কীভাবে এটি পরিচালনা করে।’

ভারতের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো রাজনীতিককে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্তটি চমৎকার। নতুন হাইকমিশনার ভারতে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি, অভিজ্ঞ। তিনি শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয় ভালো বোঝেন। তিনি সবচেয়ে কঠিন সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন বলে আমি আশাবাদী।’

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরতের প্রশ্নে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৭ বছর ধরে লন্ডনে আশ্রয়ে ছিলেন। তাই কেউ ভারত বা অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেওয়া, এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা, একেবারেই ব্যতিক্রমী কিছু নয়। এখানে কিছুটা রাজনীতি আছে, কিছুটা আইনি বিষয়ও আছে। বর্তমানে বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং আমাদের দেখতে হবে দুই সরকার কীভাবে এটি পরিচালনা করে।’

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ন্যাটস্ট্র্যাটের উপদেষ্টা শান্তনু মুখার্জিও বক্তব্য দেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ নেপাল, ভুটান ও রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নয়াদিল্লিতে নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাটস্ট্র্যাটের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন