© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্বজুড়ে নতুন ভাইরাস আতঙ্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি!

শেয়ার করুন:
বিশ্বজুড়ে নতুন ভাইরাস আতঙ্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৩ এএম | ১২ মে, ২০২৬
ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ ভাইরাস পূর্ব পরিচিত। সম্প্রতি ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের ‘সাবক্ল্যাড কে’ নামে আরও এক ফ্লু ভাইরাসের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস অপরিচিত। এই ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

মরসুমি ফ্লু বলতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসই বোঝায়। সর্দি-কাশির সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। এর অসংখ্য উপরূপ রয়েছে, যারা যখন-তখন নিজেদের চরিত্র বদলে ফেলে। ইনফ্লুয়েঞ্জা বলতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ ভাইরাসই বেশি পরিচিত। সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১) ও বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১) ভাইরাসও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরই দুই রূপ।

সম্প্রতি ভাইরাল জ্বর এত বেড়ে গেছে যে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও এক প্রতিরূপ ‘সাবক্ল্যাড কে’ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ইনফ্লুয়েঞ্জা তার নানা রূপ ও আকার নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসগুলো বিভিন্ন সময়ে উৎপাত করলেও তেমন আতঙ্ক ছড়ায়নি। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও এক বংশধর সে এ কাজে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে হু। সেটি হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি। এর নাম আগে শোনা যায়নি, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস সম্পর্কে খুব বেশি তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এবং আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির গবেষকেরা ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছে। অনেকেরই আশঙ্কা, আগামী দিনে এই ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে আবার আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি কী?
এটি কোনো নতুন ভাইরাস নয়। ইনফ্লুয়েঞ্জারই এক পরিবর্তিত রূপ, যা পূর্বে গবাদি পশুর শরীরে পাওয়া যেত। এখন এটির পরিধি বেড়েছে। গবেষকেরা বলছেন, পশু থেকে মানুষের শরীরে এর অনুপ্রবেশ ঘটেছে অজান্তেই। ঠিক করোনাভাইরাসেরই মতো। এটি এখনো বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, কিন্তু পশু খামারে যারা কাজ করেন বা আশপাশে থাকেন, তাদের শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। এ থেকে বোঝা যায়, তারা কোনো না কোনো সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

করোনারই মতোই ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এক প্রকারের আরএনএ ভাইরাস। এটি শ্বাসনালি দিয়ে মানুষের শরীরে ঢোকার ক্ষমতা রাখে, শরীরের ভেতরে ছড়াতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ মানুষের শরীরেও ঢুকে পড়তে পারে। গবেষকদের ভয় পাওয়ার আরও একটি কারণ হলো, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে, তাই যেকোনো আবহাওয়াই এই ভাইরাসের জন্য মানানসই।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস কবে ও কীভাবে মানুষের শরীরে বিবর্তিত হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করবে, তা এখনো অজানা। তবে এই ভাইরাস যে ছড়াচ্ছে, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান এই ভাইরাসের উপসর্গ সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির মতোই। মানুষের শরীরে এমন এক প্রোটিন তৈরি হয়, যা জ্বরের ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়াকে রোগ ছড়াতে উস্কানি দেয়। সেই প্রোটিনটির নাম ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’। এটি তৈরি হয় লিভারে। লিভারে তৈরি হয়ে প্রোটিনটি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। লিভার ও ফুসফুসের কোষ নষ্ট করতে শুরু করে। বাইরে থেকে কোনো জীবাণু শরীরে ঢুকলে তার বিভাজন ও বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। ফলে সেখানে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ কোষের মৃত্যু হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে যায়। প্রোটিনটির আসল লক্ষ্য হলো মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করা, যেটি কোষে কোষে শক্তির জোগান দেয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে তা এই প্রোটিনের সহায়তায় কতটা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, তা নিয়েই গবেষকদের চিন্তা বাড়ছে। এটিকে প্রতিরোধ করার উপায় নিয়েও চিন্তাভাবনা করছেন গবেষকেরা।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন