© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রয়টার্সের প্রতিবেদনইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

শেয়ার করুন:
ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৬ এএম | ১৩ মে, ২০২৬
ধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব গোপনে ইরানে একাধিক সামরিক হামলা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা।

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সৌদি আরবের এই সামরিক অভিযান আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এটিই প্রথমবার, যখন সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেল। খবর রয়টার্সের। 

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি বিমানবাহিনীর এসব হামলা মার্চের শেষ দিকে চালানো হয়। একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে হামলার জবাব হিসেবেই ‘প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা’ চালানো হয়েছিল।

তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্য হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

সোমবার (১১ মে) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে। ফলে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।

তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের কৌশলে পার্থক্য রয়েছে। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরব সংঘাত আরও বাড়তে না দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, আমরা উত্তেজনা কমানো, আত্মসংযম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।

পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার বিষয়টি সৌদি আরব আগে থেকেই ইরানকে জানায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয় এবং সৌদি আরব আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশ উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছায়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভাইজ বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানোর সমঝোতা দেখায় যে উভয় পক্ষই বুঝেছে- নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাতের মূল্য অত্যন্ত বেশি।

আলি ভাইজ বলেন, এটি পারস্পরিক আস্থার বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আগেই সংঘাত সীমিত রাখার একটি যৌথ স্বার্থ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক সপ্তাহ আগেই এই অনানুষ্ঠানিক উত্তেজনা প্রশমন কার্যকর হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২৫-এ নেমে আসে।

পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি আরবে যেসব হামলা হয়েছে, তার বেশিরভাগই ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান সরাসরি হামলা কমিয়ে দিয়েছিল, যদিও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় ছিল।

এদিকে ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরবে আবারও ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর পাওয়ার পর রিয়াদ নতুন করে ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে জবাবি পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করে।

এই সময় পাকিস্তান সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং একই সঙ্গে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন