© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এবারের কান উৎসবে কি হলিউড অনুপস্থিত?

শেয়ার করুন:
এবারের কান উৎসবে  কি হলিউড অনুপস্থিত?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৮ এএম | ১৩ মে, ২০২৬
কান উৎসবকে কি এড়িয়ে চলছে হলিউড? ৭৯তম আসরে বড় স্টুডিওগুলোর অনুপস্থিতি নিয়ে এমন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এই ঘটনা এবারই প্রথম, নেই কোনো হলিউড ব্লকবাস্টার সিনেমার প্রিমিয়ার, নেই মেগা তারকাদের ভিড়। এর আগে প্যারামাউন্টের ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ বা ‘মিশন: ইমপসিবল- দ্য ফাইনাল রেকনিং’, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘এলভিস’ কিংবা ডিজনির ‘ইন্ডিয়ানা জোনস অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’র মতো বড় সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল কান উৎসবে। এ বছর এই চিত্রটি বদলে গেছে।

৭৯তম আসরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সিনেমা আছে প্রতিযোগিতায়- রামি মালেক অভিনীত ইরা স্যাকসের মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি ‘দ্য ম্যান আই লাভ’ এবং স্কারলেট জোহানসন, অ্যাডাম ড্রাইভার ও মাইলস টেলার অভিনীত জেমস গ্রের ‘পেপার টাইগার’। তবে এ দুটিই ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা, কোনো বড় স্টুডিওর নয়। হলিউডের এই শূন্যতা অনেকটা ঢাকছে ইউনিভার্সালের ২০০১ সালের ব্লকবাস্টার ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’-এর মিডনাইট স্ক্রিনিং। সিনেমাটির প্রদর্শনীতে আজ কান উৎসবে হাজির থাকবেন ভিন ডিজেল, মিশেল রদ্রিগেজ ও জর্ডানা ব্রুস্টার।

কান উৎসবে হলিউডের এই অনুপস্থিতির কয়েকটি কারণ জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম হলিউড রিপোর্টার। তার মধ্যে প্রথম কারণ খরচ ও বিপণনকৌশল। কানে বড় কোনো হলিউড স্টুডিওর সিনেমার প্রিমিয়ার করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। অনেক প্রযোজকের যুক্তি, কান থেকে যে পরিমাণ প্রচার-প্রচারণা পাওয়া যায়, তার তুলনায় খরচ অনেক বেশি। বিশেষ করে যদি কোনো সিনেমা সমালোচকদের মন জয় করতে না পারে, তবে সেই নেতিবাচক রিভিউ বিশ্বব্যাপী ব্যবসার ক্ষতি করতে পারে।

আরেকটি কারণ, শিল্প বনাম বাণিজ্য। ইউরোপীয় এবং শৈল্পিক ধারার সিনেমার ওপর কানের অতিরিক্ত গুরুত্ব হলিউডের বাণিজ্যিক ঘরানার সঙ্গে অনেক সময় সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। স্টুডিওগুলো এখন তাই কানের পরিবর্তে ভেনিস বা টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বনাম থিয়েটারের দ্বন্দ্বও প্রভাব ফেলেছে কান উৎসবে। কানের নিয়ম অনুযায়ী, মূল প্রতিযোগিতায় থাকা সিনেমাগুলোকে ফরাসি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে হয়। এই নিয়মের কারণে নেটফ্লিক্স বা অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের বড় সিনেমাগুলো কানের মূল প্রতিযোগিতায় পাঠাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।



তবে হলিউডের এই অনুপস্থিতির ফলে কানের গ্ল্যামারে কিছুটা ভাটা পড়লেও, এটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট বা স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য আরও বড় পরিসর তৈরি হয়েছে। এ বছর ১৪০টি দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট পেশাদার (পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক, ক্রেতা ও বিক্রেতা) কানে নিবন্ধিত হয়েছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় সংখ্যাটি অনেক বেশি। কানের ইতিহাসে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশিসংখ্যক জাপানি সিনেমা অংশ নিয়েছে। কোরিয়ান সিনেমার হারও বেড়েছে। এ ছাড়া, আরব ও দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাও শক্তিশালী অবস্থান জানান দিয়েছে এবারের আসরে।

যা হলো প্রথম দিনে

এবারের কান উৎসবের প্রথম ফটোকলে অংশ নেন ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’খ্যাত নিউজিল্যান্ডের পরিচালক পিটার জ্যাকসন। আজীবন সম্মাননা হিসেবে অনারারি পাম দ্যর দেওয়া হয় তাঁকে। জুরিপ্রধান কোরিয়ান নির্মাতা পার্ক ছান উকের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭৯তম আসরের রেড কার্পেটের উদ্বোধন করেন বিচারকেরা। ফটোকলের পর সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তাঁরা। উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে প্রদর্শিত হয় ফরাসি পরিচালক পিয়ের সালভাদোরির ‘দ্য ইলেকট্রিক কিস’।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন