© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১০ লাখে বিক্রি করতে চান ২৮ মণের বাহুবলীকে

শেয়ার করুন:
১০ লাখে বিক্রি করতে চান ২৮ মণের বাহুবলীকে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৩৩ এএম | ১৪ মে, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নড়াইল কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রাহুল, রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিশালদেহী একটি ষাঁড়। নাম রাখা হয়েছে ‘বাহুবলী’।

ষাঁড়টির ওজন প্রায় ২৮ মণ, দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট। সাদা কালো রঙের ষাঁড়টি জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্রিজিয়ান শাহীওয়াল জাতের ষাঁড়টি শান্ত স্বভাব ও সুস্থর জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ছে।

প্রায় আড়াই বছর আগে কুষ্টিয়া আলমডাঙ্গা থেকে ২০০ কেজি ওজনের ষাঁড়টি কিনেছিলেন রাহুল, রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রিপন মিনা।

তখনই স্থির করেছিলেন, এটিকে বড় করে তুলবেন। স্নেহ, যত্ন আর পুষ্টিকর খাদ্যে ধীরে ধীরে বেড়েছে ষাঁড়টির গড়ন। ষাড়টিকে ভালোবেসে নাম রেখেছে ‘বাহুবলী’ বাহুবলীর বয়স এখন প্রায় চার বছর। দাঁত ২টি আর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি।

রিপন মিনা বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ না করে ঘাস, খৈল, ভুট্টার গুঁড়া ও চিটাগুড় খাইয়ে ধীরে ধীরে ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করলে এবং অতিরিক্ত খাবার দিলে ষাঁড়টির ওজন আরো অনেক বেশি হতো। তবে তাতে শরীরে চর্বি বেড়ে যেত এবং ষাঁড়টি ঝিমিয়ে পড়ত। কিন্তু পরিমিত প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ার কারণেই বাহুবলী সুঠাম দেহের অধিকারী ও অত্যন্ত প্রাণবন্ত।

রিপন মিনা আরো বলেন, ‘প্রায় ২ বছর ষাঁড়টিকে আমরা সন্তানের মতো যত্নে লালন-পালন করেছি।

এ বছর ষাঁড়টি বিক্রি করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে হাটে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিতে চাই না, খামার থেকেই বিক্রি করতে চাই। আমরা খুব বেশি লাভের কথা ভাবছি না। সুলভ মূল্য হিসেবেই ষাঁড়টির দাম ১০ লাখ টাকা চাচ্ছি।’ তবে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের নিকট ষাঁড়টি বিক্রি করার আশা খামারি রিপন মিনার।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, খড়রিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির একটি ঘরে ৬টি গরু রাখা আছে। তার মধ্যে উত্তর পাশে আলাদাভাবে বাহুবলীর যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তাকে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন এক নারী। ভাব দেখে মনে হয় তার রাজকীয় উপস্থিতি।

বিশাল দেহের অধিকারী বাহুবলী দাঁড়িয়ে আছে অত্যন্ত শান্তভাবে। এ ছাড়া তার খামারে আরো ২২টি ষাঁড় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো মাঝারি আকারের। শান্ত মেজাজে থাকা ষাঁড়টি ঘর থেকে বের করতেই অশান্ত হয়ে পড়ে। ৪ জন মিলে রশি দিয়ে বেঁধে ঘর থেকে বের করতে হয় তাকে।

ষাঁড়গুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা পারুল নামে এক কর্মী বলেন, খামারের সবচেয়ে বড় গরু বাহুবলী। তবে বিশাল দেহের অধিকারী হলেও ষাঁড়টি খুবই শান্ত প্রকৃতির। তবে কোনো কারণে রেগে গেলে ষাঁড়টিকে সামলাতে বেগ পেতে হয়। খামার থেকে বের করতে হলে ১০ থেকে ১২ জন লোকের প্রয়োজন হয়। তাকে যখন বের করা হয় তখন তাকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে।

বাহুবলীকে নিয়ম মেনে তিন বেলা খেতে দিতে হয়। খড়, কাঁচা ঘাস, ভুট্রা, চিড়াগুড়, খৈলসহ দেশীয় খাবার খাওয়ানো হয়। নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে করানো হয় গোসল।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদি পশু মোটা তাজা করা হয়েছে। তার মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪টি, বলদ ৬৩৯টি, গাভী ৫ হাজার ১৪১টি, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮৮ এবং ভেড়া ৫৫টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪টি। যা জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে।


নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, জেলায় অনেক খামারি কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটা-তাজা করছেন। তারা বিভিন্নভাবে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পশুগুলোকে বড় করে তুলছেন।

কালিয়া উপজেলার খড়রিয়াতে রিপন মিনা যে গরুটিকে মোটা-তাজা করেছেন আমরা ধারণা করছি এই গরুটি জেলার সব চেয়ে বড় গরু। বাড়ির মালিকের দাবি গরুটি ২৮ মনের কাছাকাছি। আমরা প্রত্যাশা করি খামারি প্রকৃত মূল্যটা পাবে। যাতে করে তিনি গরু পালনে আরো আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং তার দেখাদেখি এলাকায় আরো মানুষ বেশি বেশি গরু পালন করেন। জেলায় ৬টি পশুর হাটে ভেটেনারি টিম দায়িত্ব পালন করবে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যম ভোক্তাদের কাছে সুস্থ গরু তুলে দিতে আমরা কাজ করছি।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন