© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাতারাতি সাফল্য নিয়ে সারাকে সতর্ক করেছিলেন অমৃতা

শেয়ার করুন:
রাতারাতি সাফল্য নিয়ে সারাকে সতর্ক করেছিলেন অমৃতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৭ এএম | ১৪ মে, ২০২৬
বলিউডে তাঁর শুরুটা ছিল যেন একেবারে স্বপ্নের মতো। প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়েন সারা আলি খান। এরপর এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুক্তি পাওয়া দুটি ছবি তাঁকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শিখরে। হাতে আসে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কারও। কিন্তু সেই ঝলমলে সাফল্যের মাঝেও একটি কথা বারবার কানে বাজত সারার। সেই কথাটি বলেছিলেন তাঁর মা, আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অমৃতা সিং।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সারা জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতেই মা তাঁকে সাবধান করেছিলেন। বলেছিলেন, “রাতারাতি সাফল্য খুব ভয়ঙ্কর জিনিস। যত দ্রুত উপরে ওঠা যায়, তত দ্রুত পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই সবসময় পা মাটিতে রেখে চলতে হবে।”

অমৃতা সিং নিজেও খুব অল্প বয়সে তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে সানি দেওলের সঙ্গে ‘বেতাব’ ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। সেই ছবির সাফল্য তাঁকে এনে দিয়েছিল তারকার জীবন। কিন্তু তার সঙ্গে এসেছিল চাপ, প্রত্যাশা আর ব্যক্তিগত জীবনের বহু কঠিন অভিজ্ঞতাও।



পরবর্তীতে সইফ আলি খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলে ইব্রাহিম এবং মেয়ে সারাকে একাই বড় করেছেন অমৃতা। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের কখনও অভাব বুঝতে দেননি তিনি। সেই কারণেই আজও মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা সারার কণ্ঠে।

সারা বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা তাঁর মা। সাফল্যের সময়েও অমৃতা তাঁকে বাস্তবতা থেকে দূরে যেতে দেননি। বরং সবসময় মনে করিয়ে দিয়েছেন, জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষ হিসেবে মাটির কাছাকাছি থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি।

২০১৮ সালে অভিষেক কাপুরের ‘কেদারনাথ’ এবং রোহিত শেট্টির ‘সিম্বা’ মুক্তির পর রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন সারা। ‘কেদারনাথ’-এর জন্য পান সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার, আর ‘সিম্বা’ হয়ে ওঠে বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন তিনি, সেখানে অনেকেই হয়তো নিজেকে হারিয়ে ফেলতেন। কিন্তু সারার দাবি, মায়ের কথাই তাঁকে স্থির থাকতে সাহায্য করেছে।

পরবর্তী সময়ে সমালোচনা, ব্যর্থতা আর ট্রোলিংয়ের মুখেও ভেঙে পড়েননি তিনি। ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন ‘আত্রঙ্গি রে’, ‘জ়রা হটকে জ়রা বচকে’ কিংবা ‘মেট্রো… ইন দিনো’র মতো ছবিতে।

শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, মা হিসেবেও অমৃতা সিংকে আলাদা করে মনে রাখেন সারা। ছোটবেলায় বন্ধুদের মায়েরা যখন স্কুলে পৌঁছে দিতেন বা নিজের হাতে রান্না করতেন, তখন অভিনেত্রী মা সেইভাবে সময় দিতে পারতেন না। সেই নিয়ে মনখারাপও হত তাঁর। কিন্তু অমৃতা একদিন মেয়েকে বলেছিলেন, “তোমার বন্ধুদের মায়েরা কি ঘোড়ায় চড়তে পারে? অভিনয় করতে পারে? আমি পারি।” সেই কথাতেই বদলে যায় ছোট্ট সারার মনখারাপ।

আজও সমালোচনার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান তাঁর মা, এমনটাই জানালেন সারা। তবে অন্যের মন্তব্য নিয়ে বেশি ভাবতে চান না তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভালো কাজই একমাত্র উত্তর হতে পারে সব সমালোচনার।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন