© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাতুলের ‘আয়না’য় কি ধরা পড়বে মনের অন্ধকার?

শেয়ার করুন:
রাতুলের ‘আয়না’য় কি ধরা পড়বে মনের অন্ধকার?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৬ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
রাতের অন্ধকারে ভাঙা কাচের সামনে দাঁড়িয়ে যেন নিজের সঙ্গেই লড়াই করছেন একজন মানুষ। চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা আর অচেনা এক মানসিক শূন্যতা। সেই ভাঙা অনুভূতির প্রতিচ্ছবিই এবার উঠে আসতে চলেছে ‘আয়না’ নামের এক ব্যতিক্রমী বাংলা মিউজিক ভিডিওতে। পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়ের নতুন এই প্রজেক্টে সম্পূর্ণ অন্য রূপে ধরা দেবেন গায়ক শিলাজিৎ এবং অভিনেত্রী সুমনা দাস।

বাংলা মিউজিক ভিডিওর পরিচিত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে ‘আয়না’ তৈরি হয়েছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আবহকে কেন্দ্র করে। এটি শুধুমাত্র গাননির্ভর কোনও ভিডিও নয়, বরং আত্মসংঘর্ষ, মানসিক ভাঙন এবং বাস্তব-অবাস্তবের সীমারেখা হারিয়ে ফেলা এক মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বের গল্প। শিলাজিতের কথায়, এই গান কোনও পরিকল্পনার ফসল নয়। জীবনের এক কঠিন সময়ে মানসিক অস্থিরতা এবং আবেগের ধ্বংসস্তূপ থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘আয়না’।

সেই সময় তাঁর চারপাশের সবকিছুই যেন অবাস্তব মনে হচ্ছিল। মানুষ, স্মৃতি, কথোপকথন এমনকি নিজের প্রতিচ্ছবিও। তখন পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে পুরনো গান ‘বৃষ্টি আসবে মাঝরাতে’ নিয়ে ভিডিও তৈরির আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই গানের আবেগের সঙ্গে নিজের মনের অবস্থার মিল খুঁজে পাননি শিলাজিৎ। ঠিক সেই সময় রাতুল তাঁকে কল্পনা করতে বলেন তিনটি দৃশ্য- ভাঙা কাচ, অন্ধকার ঘর এবং ভাঙা হৃদয়। এই তিনটি শব্দই যেন আচমকা ঝাঁকুনি দেয় শিল্পীকে।

সেই রাতেই আইফোন এবং গ্যারেজব্যান্ড ব্যবহার করে তৈরি হয়ে যায় ‘আয়না’র সম্পূর্ণ রেকর্ডিং। পরদিন থেকেই শুরু হয় শুটিং। শিলাজিতের দাবি, এটি কোনও প্রেমের গল্প নয়, বরং নিজের অন্ধকার সত্তার মুখোমুখি হওয়ার কাহিনি। এই প্রজেক্টে অভিনেত্রী সুমনা দাসের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন তিনি। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে একেবারে অন্য ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার সাহস দেখিয়েছেন সুমনা বলেই মনে করেন শিলাজিৎ।



পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়ের কাছেও ‘আয়না’ অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি কাজ। তাঁর বিশ্বাস, বাংলা দর্শক এই ধরনের ভিজ্যুয়াল ভাষা আগে খুব একটা দেখেননি। সিনেমাটোগ্রাফার রোহান পালের ক্যামেরার কাজ, সম্পাদক ঈশানের সম্পাদনা এবং নিজের হাতে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস সামলানোর অভিজ্ঞতা এই প্রজেক্টকে আরও বিশেষ করে তুলেছে তাঁর কাছে।

রাতুল জানিয়েছেন, এই ভিডিওতে দর্শক সম্পূর্ণ নতুনভাবে দেখবেন শিলাজিৎকে। বিশেষ করে উচ্চ ফ্রেম রেটে শুট হওয়া র‌্যাপ অংশে দ্বিগুণ গতিতে পারফর্ম করা শিল্পীর জন্য যথেষ্ট কঠিন ছিল। তবে শিলাজিৎ দক্ষতার সঙ্গেই সেই চ্যালেঞ্জ সামলেছেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

অন্যদিকে অভিনেত্রী সুমনা দাসের কাছেও ‘আয়না’ এক নতুন অভিজ্ঞতা। এর আগে কখনও র‌্যাপ ঘরানার মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেননি তিনি। ভিন্নধর্মী ভাবনা এবং রাতুল মুখোপাধ্যায়ের কাজের ধরন তাঁকে এই প্রজেক্টে রাজি করিয়েছে। সুমনার কথায়, ক্যামেরার সামনে যেভাবে অভিনয় করেছেন, পর্দায় সেটিকে সম্পূর্ণ অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে নিজেকে নতুন রূপে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

এই মিউজিক ভিডিওর আবহকে আরও গভীর করেছে সৌমাল্য মল্লিকের কালার গ্রেডিং। আলো-অন্ধকার, ছায়া, মানসিক টানাপোড়েন এবং আবেগের প্রতিটি স্তরকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে সেখানে। খুব শীঘ্রই ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তি পেতে চলেছে ‘আয়না’। নির্মাতাদের আশা, নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে এই পরীক্ষামূলক উপস্থাপনা এবং মনস্তাত্ত্বিক ভিজ্যুয়াল ভাষা হয়ে উঠবে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন