© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মেহেরপুরে আলোচনায় ১৪শ কেজির ‘কালু’

শেয়ার করুন:
মেহেরপুরে আলোচনায় ১৪শ কেজির ‘কালু’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৩৮ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে এখন মানুষের মুখে মুখে একটাই নাম ‘কালু’। বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব আর রাজকীয় উপস্থিতির কারণে পাকিস্তানি শাহিওয়াল জাতের এই ষাঁড়টি যেন এলাকায় এক জীবন্ত বিস্ময় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সি মানুষ ছুটে আসছেন শুধু ষাঁড়টিকে একনজর দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন ১ হাজার ৪০০ কেজি ওজনের এই বিশাল প্রাণীটিকে।

মালয়েশিয়া প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়িতে লালিত-পালিত হওয়া ‘কালু’ এখন শুধু একটি কুরবানির পশু নয়, বরং মেহেরপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কালো ও হালকা লাল রঙের মিশেলে গড়া শক্তপোক্ত শরীর, প্রশস্ত বুক আর সুঠাম গড়নের কারণে সহজেই নজর কাড়ে গরুটি। এটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা কালুকে ঘিরে যেন ছোটখাটো এক মেলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এত বড় গরু তারা আগে কাছ থেকে দেখেননি। গরুটির দেখভালের পুরো দায়িত্ব পালন করছেন জহুরুলের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন। তার ভাষায়, কালু শুধু একটি গরু নয়, আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। আড়াই বছর ধরে সন্তানস্নেহে বড় করেছি। তিনি জানান, প্রতিদিন ৭শ টাকা খরচ হয় কালুর পেছনে। খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, ভুসি, ঘাস, ভুট্টা ও পুষ্টিকর খাদ্য। নিয়মিত গোসল করানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা-সবকিছুই করা হয় বাড়তি যত্নে। প্রচণ্ড গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করানোর কথাও জানালেন হোসনেয়ারা। তিনি আরও বলেন, কালুকে কিনতে অনেক ক্রেতা এসেছেন। কিন্তু আমরা এখনো বিক্রি করিনি। ভালো দাম পেতে একে ঢাকার বড় পশুর হাটে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান বলেন, ‘হোসনেয়ারা খুবই পরিশ্রমী নারী। তার স্বামী বিদেশে থাকলেও তিনি নিজেই ১১টি গরু লালন-পালন করেন। তবে সবগুলোর মধ্যে কালুই সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। এই গরুর প্রতি তার মমতা দেখলে অবাক হতে হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা জহুরুলের ভাই শাহাজান আলী বলেন, ভাবি আড়াই বছর ধরে কালুকে নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। নিজ হাতে খাওয়ানো, গোসল করানো-সবই করেন তিনি। এই প্রাণীটির সঙ্গে পরিবারের আবেগ জড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালুর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রতিদিন বাড়ির সামনে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। কেউ কৌতূহল নিয়ে আসছেন, কেউ আবার কুরবানির পশুর বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে আসছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, জেলায় ছোট-বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি ষাঁড়, ৪ হাজার ৮৪৪টি বলদ, ৮ হাজার ৫০৯টি গাভি, ৪৮২টি মহিষ, ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি ছাগল এবং ২ হাজার ৭২০টি ভেড়া। জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা ৯০ হাজার হলেও প্রস্তুত হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে ৮২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

মেহেরপুর এখন কুরবানির পশু উৎপাদনে সম্ভাবনাময় জেলা। আর সেই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে গাংনীর ‘কালু’, যে এখন শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং মানুষের আগ্রহ, আবেগ আর গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন